শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সারাদেশে যখন ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ চলছে, তখন বিচার নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছে তার পরিবার। শুরুতে হতাশা ও সংশয়ের কথা বললেও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর পরিবারটি এখন দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আস্থা প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে রামিসার বাসায় যান তারেক রহমান। তিনি শোকাহত বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেন এবং ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন। তাঁর এই উদ্যোগের পর পরিবারটি বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ভরসা পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
মিরপুর-১১ এর সেকশন-৭, ব্লক বি’তে অবস্থিত বাসায় গতকাল গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রামিসার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। বাড়ির সামনে স্থানীয় মানুষজনও জড়ো হয়ে নিহত শিশুর জন্য শোক ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা চোখ মুছতে মুছতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি নিজেকে একজন মেয়ের বাবা ও বড় ভাই হিসেবে পাশে থাকার কথা বলেছেন। তিনি আইনমন্ত্রীকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান। বাবার ভাষ্য, এখন তিনি বিশ্বাস করেন—সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে এবং হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়া যাবে।
রামিসার মা পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার ছোট্ট মেয়েটির খুব সাধারণ চাহিদা ছিল। প্রতিদিন মাত্র ১০ টাকা নিয়ে স্কুলে যেত সে, যা দিয়ে টিফিন কিনে খেত। ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মায়ের চিকিৎসা করবে—এমন স্বপ্ন ছিল রামিসার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। পাশের ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শোনার পরও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তিনি বুঝতে পারেননি বলে জানান তিনি।
পরিবারের চাচা মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, বাবা-মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, বারবার অচেতন হয়ে যাচ্ছেন। খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আসামির স্বীকারোক্তির পর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই এখন মূল দাবি।
রামিসার কুলখানির অংশ নিতে গতকাল দুপুরের পর পরিবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে জুমার নামাজ শেষে শিয়ালদী এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে রামিসার কবর জিয়ারত করেন তারা।
এদিকে সকালে থেকেই মিরপুরের বাসার সামনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হতে থাকেন। হাতে প্ল্যাকার্ড ও সাদা কাগজে লেখা ‘বিচার চাই’ স্লোগান নিয়ে অনেকে অবস্থান নেন। কেউ কেউ ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়েও শোক ও প্রতিবাদ জানান। পুরো এলাকায় একই দাবি—রামিসা হত্যার দ্রুত ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।



