বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। ১০ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন।
আজ সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
প্রেসিডেন্ট তার বাণীতে বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় পুলিশ বাহিনীর সততা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দিন দিন জটিল হচ্ছে। সাইবার স্পেস, এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা, গুজব, চরিত্রহনন, জঙ্গিবাদ, মানব পাচার ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের এআই, ডেটা অ্যানালিটিকস, ডিজিটাল ফরেনসিকস ও সিসিটিভি নজরদারিসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার, মানবাধিকার রক্ষা এবং জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ এখন গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও সহজ হবে। মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বাণীতে বলেন, প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্বের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জনগণের আস্থা ও সেবার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে। ভুক্তভোগীদের যথাযথ আইনি সহায়তা নিশ্চিত এবং নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ যে নিষ্ঠা ও ত্যাগের পরিচয় দিচ্ছে, তা প্রশংসনীয়। তিনি একটি আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশকে আরও গতিশীল, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। জনগণের পুলিশ হিসেবে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে সাহসিকতা, বীরত্ব, দায়িত্বনিষ্ঠা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম), বিপিএম-সেবা ও পিপিএম-সেবা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেবেন।
পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— পুনাক স্টল পরিদর্শন, কল্যাণ প্যারেড, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, আইজি’জ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার পুরস্কার বিতরণ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মতবিনিময় সভা।
এছাড়া কর্ম অধিবেশনগুলোতে বিগত বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। আগামী ১৩ মে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ শেষ হবে।



