tanaka

পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে সেবা নিশ্চিতের আহ্বান, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট দূর করতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী...
প্রচ্ছদজাতীয়নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কমানোর বিরোধিতা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির

নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কমানোর বিরোধিতা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির

নবম জাতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কমানোর যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির দাবি, সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও যদি কমানো হয়, তাহলে তা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি করবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়। একই সঙ্গে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়িয়ে দ্রুত নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতনের ওপর ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে তা ১৬ হাজার ৫০০ টাকায় দাঁড়ায়। সংগঠনটির মতে, এই পরিমাণ বেতন বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় যথেষ্ট নয়।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি বলছে, আগের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তার বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়নের নজির রয়েছে। সেই তুলনায় এবার প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি তাদের কাছে অপর্যাপ্ত বলে মনে হচ্ছে।

সংগঠনটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রায় ১১ বছর পর নতুন পে স্কেল আসতে যাচ্ছে। এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান আয় দিয়ে বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

তাদের ভাষ্য, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি নতুন পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দুটি পে স্কেল সমন্বয় করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশের কথা জানা যাচ্ছে।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের ১:৪ অনুপাতের পরিবর্তে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটির মতে, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধানের এই পরিবর্তন নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আশঙ্কা করছে, সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাবও যদি আরও কমানো হয়, তাহলে নতুন বেতন কাঠামো ও বর্তমান বাজারদরের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হবে। এতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক সংকট আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন বেতনের প্রস্তাব আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি বাজারমূল্য বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।