ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নয়াদিল্লির লালকেল্লায় আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো উপস্থিত ছিলেন না কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগে ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার (১৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও রাহুল গান্ধীর আসন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সামনের সারিতে তার বসার কথা থাকলেও তাকে পেছনের সারিতে বসানো হয়। কংগ্রেস তখন ঘটনাটিকে অপমানজনক বলে অভিযোগ করেছিল। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অলিম্পিক পদকজয়ী ও ক্রীড়াবিদদের জন্য আসন বরাদ্দের কারণেই এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
চলতি বছর অবশ্য সরকার জানিয়েছিল, রাহুল গান্ধীকে বিরোধীদলীয় নেতার পদমর্যাদা অনুযায়ী আসন দেওয়া হবে এবং তাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পরের সারিতে বসানো হবে। তবুও শেষ পর্যন্ত তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকেও সমালোচনা এসেছে। বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং তাদের অনুপস্থিতিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সদ্য শেষ হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনেও দুই পক্ষের বিরোধিতার কারণে কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হয়েছে। অধিবেশন শেষে স্পিকার ওম বিড়লার দেওয়া প্রথাগত চা-চক্রও কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি বয়কট করেছিল।
ফলে স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি দেশটির ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদের মধ্যকার চলমান রাজনৈতিক দূরত্বের বিষয়টিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।



