দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট করে দেয় টাইগাররা। এরপর বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ৪২৬ রান।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। ফলে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনাও দেখছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার জেসন গিলেস্পি। তার মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে আগের তুলনায় অনেক বেশি গভীরতা তৈরি হয়েছে।
গিলেস্পি বলেন, বাংলাদেশের পেস বোলিং এখন আর এক-দুইজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। কোচিং স্টাফরা বিভিন্ন সংস্করণের জন্য একাধিক পেসার তৈরি করছেন, যা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসা করে তিনি বিশেষভাবে হাসান, ইবাদত ও তাসকিনের পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি মেহেদী ও তাইজুলের অবদানও তুলে ধরেন তিনি। তাদের সম্মিলিত বোলিংয়ের কারণেই অস্ট্রেলিয়াকে ২০০ রানের নিচে আটকে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন গিলেস্পি।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী টেস্টে শরীফুল ইসলামের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। নাহিদ রানার বোলিংও দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। নাহিদের গতি ও আগ্রাসী বোলিং বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করেন এই সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার।
বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত টেস্ট সিরিজ আয়োজনের পক্ষেও মত দিয়েছেন গিলেস্পি। তার মতে, দুই দেশের টেস্টের মাঝে ২৩ বছরের দীর্ঘ বিরতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গিলেস্পি বলেন, বাংলাদেশের নিয়মিত অস্ট্রেলিয়া সফর করা উচিত। বিশেষ করে সিডনি, মেলবোর্ন ও অ্যাডিলেডের মতো ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুতে বাংলাদেশের খেলার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এমন নিয়মিত সফর আয়োজন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়েও নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন গিলেস্পি। তামিম ইকবালকে তিনি অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি মোহাম্মদ রফিক ও মাশরাফি বিন মুর্তজারও প্রশংসা করেন তিনি।
তার বিশ্বাস, বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব নেই। আগামী দশকে দেশটি আরও অনেক বড় তারকা ও নতুন ক্রিকেট নায়ক তৈরি করবে বলেও আশাবাদী গিলেস্পি।



