দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। পাশাপাশি এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা।
কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভিস জানিয়েছে, চলতি শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী। সোমবার (১১ আগস্ট) আঘাত হানা ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কালী, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেস। ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এতে উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালীতে ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কংক্রিটের বড় বড় টুকরা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কালীতে অন্তত ২০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। এ ছাড়া আরও ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কালী শহরের ৬৪ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক জর্জে মনকায়ো বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ভবনগুলো ধসে পড়ার সময় পুরো শহরজুড়ে ধুলোর মেঘ দেখতে পান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছিল। এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা আমার কখনো হয়নি। আমরা বেঁচে আছি—এ জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ।’
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস ওসোরিও কারাকোল টেলিভিশনকে বলেন, ভবন ধসে পড়ার শব্দ তাঁর কাছে বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছে।
জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়েছেন। ফলে নতুন সরকারের জন্য এটিকে প্রথম বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকার তার সব সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।
দে লা এস্প্রিয়েলা জানান, প্রাথমিকভাবে ১১১ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।



