চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’। প্রবল বাতাস, ভারী বর্ষণ ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় উপকূলীয় অঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ান শহরের ওপর দিয়ে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে টাইফুনটি। এ সময় ঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি ছিল। প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টিতে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
টাইফুনের প্রভাবে সমুদ্র ব্যাপক উত্তাল হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে উপকূলে। এর পাশাপাশি টানা ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনা কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
টাইফুনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে যোগাযোগ ও জনজীবনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ঝোড়ো বাতাস ও অতিভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চীনা সরকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, টাইফুনের প্রভাবে আরও কয়েক দফা ভারী বৃষ্টি হলে নদীর পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স



