tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশজাল স্বাক্ষরে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১৫ জনের ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগজাল স্বাক্ষরে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ...

জাল স্বাক্ষরে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১৫ জনের ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগজাল স্বাক্ষরে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১৫ জনের ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্বাক্ষর জাল করে বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থীসহ অন্তত ১৫ জনের ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের অজান্তেই ভূঞাপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভূঞাপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার নিজের ও নিকটাত্মীয়দের ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার করা হয়েছে। এ জন্য যে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ফরম ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে থাকা স্বাক্ষর তার বা তার কোনো আত্মীয়ের নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

হারুন অর রশিদের অভিযোগ, অসৎ উদ্দেশ্যে একটি মহল জালিয়াতির মাধ্যমে এসব ভোটার স্থানান্তর করেছে।

একইভাবে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের অন্তত ১৫ জন ভোটারকে তাদের অজান্তেই অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল মিঞা বলেন, এনআইডি কার্ডের নাম সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে গেলে তিনি জানতে পারেন, কুতুবপুরের পরিবর্তে তার ঠিকানা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুনা গ্রামে দেখানো হয়েছে। পরে বাবার এনআইডি নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করেও একই ঠিকানা দেখতে পান। তার বাবা ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী।

জুয়েল বলেন, তাদের স্বাক্ষর জাল করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। তার চাচা সাবেক কাউন্সিলরসহ পরিবারের মোট নয়জনের ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

একই গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী নূরুল আমীন বলেন, তার নামে কোনো বিদ্যুৎ মিটার না থাকলেও ভুয়া বিদ্যুৎ মিটারের কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করেই ভোটার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

সাবেক কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, তাকেসহ কয়েকজন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জাল করে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী মো. জয়েন বলেন, তিনি ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। তাকেসহ ওই ওয়ার্ডের অন্য কাউন্সিলর প্রার্থীদেরও ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান জয়েন।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের অফিসে আসতে বলা হয়েছে। অতি শিগগিরই তাদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।