বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। দীর্ঘ ছাত্ররাজনীতি ও দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের পর এবার বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিনির্ধারণী কাঠামোর অংশ হলেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রিজভী আহমেদকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করার বিষয়টি জানানো হয়। দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক শুরুর গল্প
রুহুল কবির রিজভীর পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রামে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি ইতিহাস বিষয়ে এমএ এবং আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর বামপন্থি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে তার ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ। রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।
পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার পর তার রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক থেকে শুরু করে সাধারণ সম্পাদক—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রাকসুর ভিপি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে
১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন রুহুল কবির রিজভী। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ছাত্ররাজনীতির এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর দলীয় মুখপাত্র ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাকে নিয়মিতভাবে সক্রিয় দেখা যায়।
নতুন দায়িত্বে রিজভী
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুহুল কবির রিজভী বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর এবার তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে স্থান পেলেন।
ছাত্ররাজনীতির মাঠ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে স্থায়ী কমিটিতে তার এই অন্তর্ভুক্তি বিএনপির রাজনীতিতে তার দীর্ঘ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছাত্রদলের রাজনীতি, রাকসুর নেতৃত্ব, বিএনপির কেন্দ্রীয় দায়িত্ব এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পর এবার দলের নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ পর্যায়ে রিজভী—তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়।



