মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসের প্রযুক্তিভিত্তিক শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফিবির কম্পিউটার সায়েন্স ও কোডিংয়ের অভিজ্ঞতা কতটা ছিল, তা নিয়ে তার সাবেক সহপাঠীদের কিছু মন্তব্য সামনে এসেছে।
‘ফিয়া’ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিবির প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়ে আলোচনা ছিল। এবার স্ট্যানফোর্ডের এক সহপাঠীর দাবি, ফিবি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অ্যাডভান্সড কোডিং কোর্স করেননি। এমনকি তার মানব জীববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রির জন্য কম্পিউটার সায়েন্সের কোর্সও বাধ্যতামূলক ছিল না।
ওই সহপাঠীর ভাষ্য, ফিবি হয়তো প্রযুক্তি ও গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু কোর্স করে থাকতে পারেন। তবে তাকে কোনো দক্ষ প্রোগ্রামার হিসেবে সহপাঠীরা চিনতেন না।
তবে ফিবি স্ট্যানফোর্ডে ‘অ্যাপ্লায়েড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ও উদ্যোক্তা বিষয়ক একটি কোর্স করেছিলেন। এই কোর্স থেকেই তার শপিং স্টার্টআপের ধারণা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
স্ট্যানফোর্ডের সাবেক রুমমেট সোফিয়া কিয়ানির সঙ্গে যৌথভাবে ফিবি ‘ফিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল পার্সোনাল শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে।
‘কুকি স্টাফিং’ নিয়ে বিতর্ক
সম্প্রতি ‘ফিয়া’র বিরুদ্ধে ‘কুকি স্টাফিং’-এর অভিযোগ ওঠার পর স্টার্টআপটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির একটি ‘অটো ড্রপ’ ফিচার এমনভাবে কাজ করছিল, যার মাধ্যমে কোনো ব্যবহারকারীকে বাস্তবে নির্দিষ্ট বিক্রেতার ওয়েবসাইটে পাঠানো না হলেও কমিশন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফাঁস হওয়া কিছু স্ল্যাক বার্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে ফিয়ার প্রকৌশলীদের সঙ্গে কুকি ‘ড্রপ’ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
‘কুকি স্টাফিং’ সাধারণভাবে এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ব্যবহারকারীর ব্রাউজারে অ্যাফিলিয়েট ট্র্যাকিং কুকি স্থাপন করা হয়, যাতে কোনো বিক্রয় সরাসরি ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে না হলেও কমিশন দাবি করা সম্ভব হয়।
ফিয়া অবশ্য অভিযোগের সব অংশের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিতর্কিত ফিচারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিক্রিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আয় কমে যাওয়ার দাবি
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, জুলাইয়ে বিতর্কিত ফিচারগুলো বন্ধ করার পর ফিয়ার গড় দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আগে যেখানে দৈনিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার ছিল বলে দাবি করা হয়েছিল, ফিচার বন্ধের পর তা প্রায় ১০ হাজার থেকে ২৮ হাজার ডলারের মধ্যে নেমে আসে।
এদিকে ফিবি ও কিয়ানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের সম্ভাবনা কম হলেও দেওয়ানি মামলা ও বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার ঝুঁকি থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, ফিয়ার ব্যবসায়িক মডেল, প্রযুক্তিগত কার্যক্রম এবং ‘কুকি স্টাফিং’ বিতর্ক এখন ফিবি গেটসের স্টার্টআপকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও বিষয়টির আইনি ও বাস্তব চিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।



