কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া দুই মাদ্রাসাছাত্রীকে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে তারা স্বেচ্ছায় কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এদিন দুই কিশোরীকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরী হলো—চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মহিন উদ্দিনের মেয়ে মাহিমা ইসলাম মাহি (১২) এবং একই ইউনিয়নের যুগিরকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে তানিসা আক্তার (১৪)। তারা দুজনই স্থানীয় আল-আমিন মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী।
মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহিমা ও তানিসা নিজ নিজ বাড়ি থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশে বের হয়। তবে তারা মাদ্রাসায় না গিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। দিন শেষে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
কোথাও সন্ধান না পেয়ে পরে পরিবারের পক্ষ থেকে চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কক্সবাজারে অবস্থান শনাক্ত
ঘটনাটি জানার পর কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় দুই কিশোরীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানা ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বিত একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তাদের অবস্থান কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে কক্সবাজার ডিবি পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টের ‘গ্রীণ প্যারাডাইজ’ হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষ থেকে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের কাছে হস্তান্তর
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘জিডিমূলে তাদের উদ্ধারে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। কক্সবাজার ডিবির সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করেই দুই কিশোরী স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়েছিল।



