tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদনচিকিৎসককে বিয়ে করে অভিনয় ছেড়েছিলেন ভারতীয় সিনেমার প্রথম ‘লেডি সুপারস্টার’ বৈজয়ন্তীমালা

চিকিৎসককে বিয়ে করে অভিনয় ছেড়েছিলেন ভারতীয় সিনেমার প্রথম ‘লেডি সুপারস্টার’ বৈজয়ন্তীমালা

সৌন্দর্য, নৃত্যশৈলী আর অসাধারণ অভিনয়ের সমন্বয়ে তিনি ছিলেন এক অনন্য নক্ষত্র। ভাগ্যশ্রী বা নীতু কাপুরের মতোই বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে সংসারে মন দিয়েছিলেন বৈজয়ন্তীমালা, অথচ তখনই তিনি ছিলেন ক্যারিয়ারের শীর্ষ সাফল্যে।

বৈজয়ন্তীমালা কেবল একজন নায়িকার নাম নয়; তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য উত্তরাধিকার। দক্ষিণ ভারত থেকে উঠে এসেও হিন্দি সিনেমায় সমান রাজত্ব করার নজির স্থাপন করেছিলেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচে তার দক্ষতা তাকে হিন্দি, তামিল ও তেলেগু—এই তিন ইন্ডাস্ট্রির সম্রাজ্ঞীতে পরিণত করে। তাই তাকে বলা হয় ভারতীয় সিনেমার প্রথম প্রকৃত ‘লেডি সুপারস্টার’।

আলো-ঝলমলে রুপালি জগৎ ছেড়ে গেলেও বৈজয়ন্তীমালার আবেদন আজও অম্লান। ভক্তদের কাছে তিনি এক কিংবদন্তি, যার মতো আর কেউ আসেননি।

তার শিল্পযাত্রার সূচনা হয় শৈশবেই। ১৯৪০ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে ভ্যাটিকান সিটিতে পোপ পায়াস দ্বাদশের সামনে পরিবেশন করেছিলেন শাস্ত্রীয় নৃত্য। গুরু ভাঝুভুর রামাইয়া পিল্লাইয়ের কাছে ভরতনাট্যম এবং মানাক্কাল শিবরাজ আয়ারের কাছে কর্নাটক সংগীতে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সম্পন্ন করেন নিজের আরঙ্গেত্রম—শাস্ত্রীয় নৃত্যের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ।

১৯৪৯ সালে পরিচালক এমভি রমন চেন্নাইয়ের গোকলে হলে বৈজয়ন্তীমালার নাচ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে বেছে নেন এভিএম প্রোডাকশনের ‘ভাজকাই’ ছবির জন্য। ১৩ বছরের কিশোরীর প্রথম সিনেমাই হয়ে ওঠে বিশাল সাফল্য। পরে এর হিন্দি সংস্করণ বাহার ও তেলেগু সংস্করণও রেকর্ড গড়ে। সেখান থেকেই শুরু হয় তার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা।

‘নাগিন’, ‘দেবদাস’, ‘নয়া দৌড়’, ‘সাধনা’, ‘আম্রপালি’—একের পর এক হিট ছবি তাকে পৌঁছে দেয় সাফল্যের শিখরে। তিন ইন্ডাস্ট্রিতেই সমান জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। খুব কম অভিনেত্রীর পক্ষেই একসঙ্গে এত বৈচিত্র্যময় দর্শককে মুগ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। হেমা মালিনী, জয়াপ্রদা, শ্রীদেবীর মতো অনেক দক্ষিণী অভিনেত্রীর বলিউডে আসার পথও তিনি সুগম করেছিলেন।

ব্যক্তিজীবনও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দিলীপ কুমারের সঙ্গে তার জুটি ছিল ব্লকবাস্টার। শোনা যায়, ‘গঙ্গা যমুনা’র শুটিংয়ে বৈজয়ন্তীমালার প্রতিটি দৃশ্যে কোন রঙের শাড়ি তিনি পরবেন, তা নির্ধারণ করতেন স্বয়ং দিলীপ কুমার। ষাটের দশকে রাজকাপুরের সঙ্গেও তার নাম জড়ায়, এমনকি বিয়ের গুঞ্জনও ছড়ায়, যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক চমনলাল বালির সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধেন বৈজয়ন্তীমালা। চিকিৎসার সূত্রে শুরু হওয়া সম্পর্ক ধীরে ধীরে গড়ায় প্রেমে, আর পরিণত হয় বিয়েতে। ১৯৬৮ সালে বিয়ের পর অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে সরে আসেন তিনি। তবে বিয়ের আগে করা চুক্তির কয়েকটি ছবি—‘পেয়ার হি পেয়ার’, ‘প্রিন্স’, ‘গাঁওয়ার’ ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মুক্তি পায়। এরপর রুপালি জগৎ ছেড়ে সংসারেই মনোনিবেশ করেন এই কিংবদন্তি নায়িকা।