গত কয়েক বছরে স্মার্টফোনে টাইপ-সি (USB-C) পোর্ট প্রায় সর্বজনীন মান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অ্যাপল থেকে অ্যান্ড্রয়েড—বেশিরভাগ ব্র্যান্ডের নতুন ডিভাইসেই এখন এই পোর্ট দেখা যায়। অনেকের ধারণা, চার্জিং ক্যাবল সংযোগ করা ছাড়া এর আর তেমন কোনো কাজ নেই। অথচ আধুনিক স্মার্টফোনের এই ছোট্ট পোর্টটি নানা ধরনের ডিভাইস সংযোগের সুযোগ তৈরি করে ফোনকে অনেকটা কম্পিউটারের মতো বহুমুখী করে তুলতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক স্মার্টফোনের টাইপ-সি পোর্টের ৮টি কাজের ব্যবহার—
১. অন্য ডিভাইস চার্জ করা
আপনার ইয়ারবাডস, স্মার্টওয়াচ কিংবা অন্য কারও ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে টাইপ-সি টু টাইপ-সি ক্যাবল ব্যবহার করে নিজের ফোন থেকেই সেটি চার্জ দিতে পারেন। অর্থাৎ প্রয়োজনের সময় স্মার্টফোনকে ছোটখাটো পাওয়ার ব্যাংক হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এ সুবিধা ফোনের মডেল ও সফটওয়্যার সমর্থনের ওপর নির্ভর করে।
২. পেনড্রাইভ ও মেমোরি কার্ড যুক্ত করা
ইন্টারনেট বা ইমেইল ব্যবহার না করেও বড় ফাইল দ্রুত স্থানান্তর করা যায়। টাইপ-সি সমর্থিত পেনড্রাইভ কিংবা ইউএসবি-সি মেমোরি কার্ড রিডার সরাসরি ফোনে যুক্ত করে ফাইল কপি, স্থানান্তর বা ব্যাকআপ নেওয়া সম্ভব।
বিশেষ করে ফটোগ্রাফার ও ভিডিও নির্মাতাদের জন্য বড় ফাইল ব্যবস্থাপনায় এই সুবিধা বেশ কার্যকর।
৩. কীবোর্ড সংযোগ
ফোনের ছোট স্ক্রিনে দীর্ঘ কোনো ডকুমেন্ট লেখা বা অফিসিয়াল ই-মেইল টাইপ করা অনেকের জন্য ঝামেলার। টাইপ-সি পোর্টের মাধ্যমে তারযুক্ত কীবোর্ড সংযোগ করে ফোনেই দ্রুত টাইপ করা যায়। এতে প্রয়োজনের সময় স্মার্টফোনকে ছোট ওয়ার্কস্টেশনের মতো ব্যবহার করা সম্ভব।
৪. মনিটর বা টিভিতে ডিসপ্লে দেখানো
ফোনের ছোট স্ক্রিনে সিনেমা দেখা কিংবা প্রেজেন্টেশন দেখানো অসুবিধার হলে টাইপ-সি টু এইচডিএমআই অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে ফোনকে বড় মনিটর বা টিভির সঙ্গে যুক্ত করা যায়।
তবে এ সুবিধা সব স্মার্টফোনে পাওয়া যায় না। ফোনের ইউএসবি-সি পোর্টে ভিডিও আউটপুট সমর্থন থাকতে হবে।
৫. উন্নত মানের অডিও রেকর্ড করা
কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য ভালো মানের অডিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টাইপ-সি পোর্টের মাধ্যমে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক্সটার্নাল মাইক্রোফোন যুক্ত করে ফোনেই উন্নত মানের শব্দ রেকর্ড করা যায়। পডকাস্ট, সাক্ষাৎকার কিংবা ভিডিও তৈরিতে এটি বেশ কাজে আসে।
৬. তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার
অনেক আধুনিক ফোনে ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক নেই। সে ক্ষেত্রে টাইপ-সি অডিও অ্যাডাপ্টার কিংবা সরাসরি টাইপ-সি হেডফোন ব্যবহার করা যায়।
উপযুক্ত ডিভাইস ও অডিও সাপোর্ট থাকলে তারযুক্ত সংযোগের মাধ্যমে উচ্চমানের অডিও উপভোগ করা সম্ভব।
৭. গেমিং কন্ট্রোলার সংযোগ
ব্লুটুথ কন্ট্রোলারে কখনো কখনো সামান্য ইনপুট ল্যাগ দেখা দিতে পারে। সামঞ্জস্যপূর্ণ তারযুক্ত গেমিং কন্ট্রোলার টাইপ-সি পোর্টে সরাসরি সংযোগ করলে এ ধরনের বিলম্ব কমানো সম্ভব। ফলে মোবাইল গেমিংয়ের সময় আরও দ্রুত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যেতে পারে।
৮. পেশাদার ও বৈজ্ঞানিক গ্যাজেট পরিচালনা
টাইপ-সি পোর্ট শুধু বিনোদন বা সাধারণ কাজেই সীমাবদ্ধ নয়। সামঞ্জস্যপূর্ণ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এন্ডোস্কোপ ক্যামেরার মতো বিভিন্ন ডিভাইস সংযুক্ত করে মেকানিক, টেকনিশিয়ান বা কারিগরি কাজে ব্যবহার করা যায়।
এমনকি কিছু পোর্টেবল চিকিৎসা সরঞ্জামও স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব। যেমন, নির্দিষ্ট ইউএসবি-সি সমর্থিত পোর্টেবল আল্ট্রাসাউন্ড ডিভাইস স্মার্টফোনের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।
তাই স্মার্টফোনের টাইপ-সি পোর্টকে শুধু চার্জিংয়ের মাধ্যম হিসেবে না দেখে এর অন্যান্য সুবিধাও কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে কোনো ফিচার ব্যবহারের আগে ফোনের মডেল, ইউএসবি-সি পোর্টের সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় অ্যাডাপ্টার বা ডিভাইসের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা জরুরি।



