ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপির এক নেতাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার হজরতপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ নেতার নাম হাসান মোল্লা। তিনি হজরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের দিকে কার্যালয়ের সামনে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলযোগে আসা একদল দুর্বৃত্ত হাসান মোল্লাকে লক্ষ্য করে তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় একটি গুলি তার বুকে লাগে। গুলিবর্ষণের পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় হাসান মোল্লাকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার বিষয়ে বিএনপির ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী আমান উল্লাহ আমানের এপিএস উজ্জ্বল হোসেন কালবেলাকে বলেন, “হাসান মোল্লা দলের একজন সক্রিয় নেতা। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই গুলি চালানো হয়েছে। এটি একটি কাপুরুষোচিত হামলা। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম কালবেলাকে জানান, হাসান মোল্লা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি ওয়াজ মাহফিল থেকে ফেরার পথে ঢালিকান্দি এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হামলার কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় হজরতপুর ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ জানুয়ারি যশোর শহরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আলমগীর হোসেন নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হন। তিনি যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।



