বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত সময়ে দেশে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। এর ফলে অনেক তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতী জন্মের পর আজও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন ভোট দিতে চায়, নিজের ভোট নিজে দিতে চায়। বিএনপিও জনগণের সেই সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।
বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এর আগে তিনি সিলেট শহরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ ও মৌলভীবাজারের শেরপুরে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।
শায়েস্তাগঞ্জে দিনের তৃতীয় জনসভায় তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণেই দেশ আজ নানামুখী সংকটে পড়েছে। তিনি বলেন, ভোটের অধিকার নষ্ট হলে জবাবদিহিতা থাকে না, আর জবাবদিহিতা না থাকলে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও বৈষম্য বাড়ে।
এ সময় তিনি হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে আলহাজ্ব জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে সৈয়দ মো. ফয়সলের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন পর্যন্ত সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা না যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে ভোট দখলের নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। প্রবাসী পোস্টাল ভোটসহ বিভিন্ন কৌশল নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশে লাখ লাখ শিক্ষিত যুবক বেকার। তাদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। চা শ্রমিকসহ সব পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ন্যূনতম জীবনযাপন নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় খাতে নিয়োজিত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের অবদান রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি কার্ড চালুর কথাও জানান তিনি।
জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, যারা ১৯৭১ সালে দেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের চরিত্র মানুষ আগেই দেখেছে। নতুন করে দেখার কিছু নেই। নির্বাচনের আগে বিকাশসহ বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে ন্যায়পরায়ণতার নির্বাচন, জনগণের নির্বাচন। জনগণের রায়ে সরকার গঠিত হলে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র জি কে গউছ, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আলী মুকিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার শিফা এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল।
এর আগে বুধবার রাতে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছান তারেক রহমান। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। সভা সঞ্চালনা করেন বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



