কাতারে আটকে থাকা ইরানের ৬০০ কোটি ডলারের সম্পদ শিগগিরই অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া একটি প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে এই অর্থ তেহরানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
রোববার (২১ জুন) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, “আজ থেকে আলোচনা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাতারে থাকা আমাদের ৬০০ কোটি ডলারও মুক্ত করা হবে এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।”
তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে ইরান কোনো অবস্থাতেই সরে আসবে না। তিনি বলেন, “একটি বিষয় নিশ্চিত—আমরা কখনোই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ত্যাগ করব না। শেষ পর্যন্ত অপর পক্ষও এই বাস্তবতা মেনে নিতে বাধ্য হবে।”
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দাবি করেন, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই। তার ভাষ্য, “এটি নতুন কোনো অবস্থান নয়। ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতারা বহু বছর ধরেই এ বিষয়ে একই নীতি অনুসরণ করে আসছেন।”
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গত বুধবার স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অপরদিকে ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করছে পাকিস্তান।



