আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া সহজ করা, লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাণিজ্য ব্যয় কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সরকার বিভিন্ন দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
সভায় জানানো হয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে ৪৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি সাতটি পদক্ষেপ ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া বাণিজ্যসংক্রান্ত সনদ, লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন ও সেবা একই প্ল্যাটফর্মে আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো চালু রয়েছে। এতে বর্তমানে ১৯টি সংস্থা যুক্ত হয়েছে এবং আরও ১৮টি দপ্তরকে যুক্ত করার উদ্যোগ চলছে।
এনবিআর জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (এআরএমএস) আগামী অক্টোবরের মধ্যে চালুর লক্ষ্য রয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক এ ব্যবস্থা চালু হলে পণ্য খালাস আরও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে।
সভায় পচনশীল কৃষিপণ্য রপ্তানির অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে কোল্ড স্টোরেজ আধুনিকায়ন, বেনাপোলে নতুন কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং মোংলায় কোল্ড স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সব কার্যক্রম শুধু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতায় অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার চেষ্টা চলছে।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
#বাণিজ্য #আমদানি #রপ্তানি #এনবিআর #বাণিজ্য_সহজীকরণ #বাংলাদেশসংবাদ



