জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক এবং জাতীয়তাবাদের অন্যতম পথিকৃৎ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান ছিল অনুপ্রেরণার অমলিন উৎস।
রোববার (২৪ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের মানুষের পরম প্রিয়জন। তার ১২৭তম জন্মবার্ষিকীতে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি তাকে। কামনা করি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন ও নিপীড়িত জাতির অন্ধকার আকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। নিস্তেজ জাতিকে জাগিয়ে তুলে আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে যে সর্বজনীন প্রতিভার প্রয়োজন ছিল, নজরুল ছিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত শক্তির প্রতীক।”
তারেক রহমান বলেন, নজরুলের জীবন ছিল অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে এক অবিরাম বিদ্রোহ। ঔপনিবেশিক শাসন, বৈষম্য, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তার লেখনী ছিল প্রতিবাদের দৃপ্ত ভাষা।
তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও নারীমুক্তির পক্ষে নজরুলের মতো শক্তিশালী শিল্পিত উচ্চারণ বাংলা সাহিত্যে বিরল। কাজী নজরুল ইসলামই ছিলেন উপমহাদেশে পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার প্রথম কবি, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের একজন।
মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা ও জাতীয় চেতনাকে জাগ্রত করার ক্ষেত্রেও নজরুলকে অন্যতম প্রধান দিশারি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের জীবন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস তার সৃষ্টিকর্মে মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি আজও আমাদের প্রধান প্রেরণা।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে নজরুলের আবির্ভাব ছিল ধূমকেতুর মতো বিস্ময়কর। অল্প সময়ের সৃষ্টিশীল সাধনায় তিনি জাতিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছেন এবং জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির শক্ত ভিত নির্মাণ করে গেছেন।”
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ এবং কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিচ্ছেদ্য সত্তা। তিনি শুধু বাংলাদেশের জাতীয় কবিই নন, বিশ্বের নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষেরও কণ্ঠস্বর। জাতীয় কবির জন্মদিনে অন্যায়, দারিদ্র্য ও বিভেদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে।”



