তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতদিন এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অর্থাৎ দাম বাড়ছে ২৫২ টাকা।
সূত্র জানিয়েছে, রোববার (৪ অক্টোবর) কিছুক্ষণের মধ্যেই অক্টোবর মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করবে বিইআরসি।
এরই মধ্যে বাজারে এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কয়েকটি অপারেটর বড় ধরনের মুনাফা করার চেষ্টা করছে বলে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানো হলে শনিবার দেশের এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী।
সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে এলপিজি মজুতের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য তুলে ধরে বৈঠকে বলা হয়, দেশে চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। তাহলে বাজারে সংকট কেন এবং বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে কেন—লোটাব নেতাদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে লোটাব নেতারা জানান, এলপিজির দাম বেশি বাড়ানো হলে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম অনেক বেড়েছে।
বৈঠক শেষে বিষয়টি নিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে একাধিকবার জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বৈঠকে উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অপারেটররা রোববার থেকেই এক লাফে এলপিজির দাম বাড়ানোর পক্ষে। তাদের মতে, দাম বাড়ানো হলে আমদানি কার্যক্রমে সুবিধা হবে। তবে অপারেটরদের চাহিদা অনুযায়ী বিইআরসি দাম বাড়াচ্ছে না—এমন অভিযোগও বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন লোটাব নেতারা।
বাজারে ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার আড়াই হাজারে
জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিইআরসি নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার ১২ কেজি সিলিন্ডার বর্তমানে কোথাও কোথাও আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি আমদানি ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। এই সুযোগে অনেক অপারেটর এলপিজি মজুত করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অনেক এলপিজি অপারেটর আগেভাগেই নিজেদের ট্যাংকারে এলপিজি মজুত করেছে। আবার কেউ কেউ ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বঙ্গোপসাগরের সীমার কাছাকাছি এলপিজিবাহী জাহাজ ভাসিয়ে রেখেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অক্টোবর মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিইআরসি।



