tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে: তথ্য উপদেষ্টা

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে: তথ্য উপদেষ্টা

দেশে সারের কোনো সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় বিতরণ ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সারের মজুত ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কৃষকদের যেন কোনো ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া ৪ লাখ ৮২ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৬৯ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ৬৮ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৪৬ হাজার টনসহ মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও বিপুল পরিমাণ সার আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে এবং কিছু চালান চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে।

বিতরণ ব্যবস্থার অনিয়ম এবং কিছু এলাকায় সাময়িক সংকটের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কৃষক ও জনগণের স্বার্থে সরকার বিতরণ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে। কিছু ডিলার সময়মতো বরাদ্দের সার উত্তোলন না করায় কোথাও কোথাও সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বদলি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ সার হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক অনিশ্চয়তার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আগেভাগেই সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্রিফিংয়ে সরকারের অন্যান্য কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি জানান, সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যমে ৪৬৪টি এবং প্রধানমন্ত্রীর নামে ১৫৭টি অসত্য ও অপতথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্যানেল আইনজীবী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দ্রুত অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ‘বাংলা ফ্যাক্ট’ প্রকল্পকে ‘নিউ মিডিয়া প্রজেক্ট’-এর আওতায় আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিট ১২-১৪ ডলার থেকে বেড়ে ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। এফএসআরইউ দুর্ঘটনার কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় উৎস থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে ১৫০টি কূপে খনন ও পুনঃখননকাজ চলছে।

এ ছাড়া ভোলা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত গ্যাস আনার কাজ চলছে। শিল্পকারখানার বকেয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চতুর্থ প্রজন্মের এমআরসিএ মাল্টিরোল কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং আধুনিক ইউএভি সিস্টেম কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘ চার বছর ধরে জমে থাকা অবসর ও কল্যাণ ভাতার ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা সরাসরি ৬৪ জেলার শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে ডিজিটাল মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ৪১ লাখ পরিবারের জন্য ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সর্বজনীন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক বহুগুণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছে সরকার।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।