tanaka
প্রচ্ছদতথ্যপ্রযুক্তিএআই প্রযুক্তিতে স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণে গবেষকদের নতুন মাইলফলক

এআই প্রযুক্তিতে স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণে গবেষকদের নতুন মাইলফলক

  1. স্তন ক্যানসারের টিউমারের ভেতরে থাকা অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তন ও অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের গবেষকেরা।

    নেচার কমিউনিকেশন্স-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যানসার কোষের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র কাঠামো ‘সেন্ট্রোসোম’-এর অস্বাভাবিকতা বিশ্লেষণ করে টিউমার কতটা আক্রমণাত্মক হতে পারে এবং রোগীর চিকিৎসাগত ফলাফল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

    সেন্ট্রোসোম কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    সেন্ট্রোসোম কোষ বিভাজনের সময় জিনগত উপাদান সঠিকভাবে বণ্টন এবং কোষের অভ্যন্তরীণ কাঠামো সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে কোষ বিভাজনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে, যা ক্যানসার বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তবে টিউমারের বিপুলসংখ্যক কোষে থাকা সেন্ট্রোসোম একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা এতদিন ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল।

    ‘সেনসেগনেট’ কীভাবে কাজ করে?

    এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে গবেষকেরা ‘সেনসেগনেট’ (Centrosome Segmentation Network) নামে একটি ওপেন-সোর্স এআই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন।

    এটি টিউমারের হাজার হাজার কোষ দ্রুত বিশ্লেষণ করে সেন্ট্রোসোমের—

    • সংখ্যা
    • আকার
    • অবস্থান

    এসবের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে পারে।

    ড. সালাহ এলিয়াসের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় ইউনিভার্সিটি হসপিটাল সাউদাম্পটনে চিকিৎসা নেওয়া ১২৭ জন স্তন ক্যানসার রোগীর ৯১১টি টিউমার নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে এআইয়ের মাধ্যমে ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি সেন্ট্রোসোম পরীক্ষা করা হয়েছে।

    পাওয়া গেছে দুই ধরনের অস্বাভাবিকতা

    গবেষণায় সেন্ট্রোসোমের দুটি পৃথক পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে:

    • সংখ্যাগত পরিবর্তন: ক্যানসার কোষে স্বাভাবিকের তুলনায় সেন্ট্রোসোমের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া।
    • আকারগত পরিবর্তন: সেন্ট্রোসোম অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যাওয়া।

    আগে এই দুটি পরিবর্তনকে একই প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করা হলেও এআই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এগুলো স্বাধীনভাবে ঘটতে পারে এবং একই টিউমারের বিভিন্ন অংশে আলাদাভাবে দেখা দিতে পারে।

    আক্রমণাত্মক ক্যানসারের পূর্বাভাস

    গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব টিউমারে বড় আকারের সেন্ট্রোসোম বেশি থাকে, সেগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক হওয়ার প্রবণতা দেখায়। এর সঙ্গে উচ্চতর টিউমার গ্রেড, লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া এবং নির্দিষ্ট জেনেটিক পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

    অন্যদিকে, টিউমারের কেন্দ্রীয় অংশে বড় সেন্ট্রোসোমের সংখ্যা কম থাকা রোগীদের দীর্ঘমেয়াদে ভালো থাকার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

    গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি সেন্ট্রোসোমের অস্বাভাবিকতাকে শুধু একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে না দেখে এর ধরন ও টিউমারের কোন অংশে তা ঘটছে—সেটিও আলাদাভাবে বিশ্লেষণের সুযোগ দিয়েছে। ভবিষ্যতে এটি নতুন বায়োমার্কার শনাক্তকরণ এবং রোগীর জন্য আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।

    ভবিষ্যতে আরও বড় সম্ভাবনা

    ‘সেনসেগনেট’ ওপেন-সোর্স হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক ও প্যাথলজিস্টরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন। স্তন ক্যানসারের পাশাপাশি কিডনি, কোলন ও অ্যাপেন্ডিক্সের টিস্যুতেও প্রযুক্তিটির পরীক্ষা করা হয়েছে।

    তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেনসেগনেট এখনো নিয়মিত ক্লিনিক্যাল চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়। ভবিষ্যতে গবেষকেরা এআই বিশ্লেষণের সঙ্গে জিনোমিক, ট্রান্সক্রিপ্টোমিক ও প্রোটিওমিক তথ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন। এতে উচ্চঝুঁকির রোগী শনাক্ত করা এবং সম্ভাব্যভাবে রোগীর জন্য আরও নির্দিষ্ট চিকিৎসা বেছে নেওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।