-
আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোকে শুধু প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উদ্ভাবন, স্টার্টআপ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
শনিবার (২২ আগস্ট) যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যায়ে নিয়ে যেতে দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোকে জাতীয় সক্ষমতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়; প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা।”
প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানে গুরুত্ব
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে প্রচলিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পরিবর্তে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদাভিত্তিক, দক্ষতানির্ভর ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।
তাঁর মতে, একজন প্রশিক্ষণার্থী কত ঘণ্টা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা কতটি সনদ পেয়েছেন—শুধু তা দিয়ে প্রশিক্ষণের সফলতা নির্ধারণ করা উচিত নয়। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি চাকরি পেয়েছেন কি না, ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত হয়েছেন কি না, উদ্যোক্তা হয়েছেন কি না এবং অর্জিত দক্ষতা বাস্তবে কাজে লাগাতে পারছেন কি না—এসব বিষয়কেও গুরুত্ব দিতে হবে।
স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আগামী দিনের ডিজিটাল অর্থনীতিতে শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তাও তৈরি করতে হবে।
উদ্যোক্তাদের জন্য থাকবে মেন্টরিং ও বিনিয়োগ সংযোগ
মন্ত্রী জানান, আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোতে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, কারিগরি সহায়তা, ব্যবসা উন্নয়ন, বাজারসংযোগ এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা হবে।
ইনকিউবেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবসায়িক ধারণা যাচাই, পণ্য ও সেবা উন্নয়ন, বাজারে প্রবেশ এবং ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রস্তুত করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে শক্তিশালী ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া-ইনোভেশন-ইনভেস্টমেন্ট ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় আসবে ট্রেনিং সেন্টার
সরকারি অব্যবহৃত স্থাপনা ও অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইটি সেন্টারগুলোর অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, ইউটিলিটি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবার মানকে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নির্দেশিকা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোর সেবার মান বাড়বে। একই সঙ্গে তরুণদের কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ তৈরি হবে এবং প্রযুক্তি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
প্রণয়ন করা হয়েছে নতুন নির্দেশিকা
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ বাড়ানো, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ তৈরি, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় প্রশিক্ষণের বিষয়, কারিকুলাম ও দক্ষতার মান নির্ধারণে শিল্পখাতের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সময়ের সঙ্গে প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো নিয়মিত হালনাগাদের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোর কার্যক্রম ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী, কোর্স, প্রশিক্ষক, উপস্থিতি, মূল্যায়ন, ফলাফল, সনদ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী ফলাফল ডিজিটালভাবে ব্যবস্থাপনা করা যাবে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারকে আরও যুগোপযোগী, কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও ফলাফলভিত্তিক করার লক্ষ্যেই এই নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য অনুপম বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান।



