শৈশবের অনেকটা সময় কেটে যায় এমন কিছু জায়গায়, যেগুলো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু স্মৃতির পাতাতেই রয়ে যায়। ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও সেই পুরোনো দিনগুলোর টান কমে না। এবার নিজের নানুবাড়ির স্মৃতি মনে করে সেই নস্টালজিয়ায় ডুব দিলেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের শৈশবের নানুবাড়ি নিয়ে আবেগঘন একটি লেখা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া পরিবেশ আর হারিয়ে যাওয়া শৈশবের কোলাহলের কথা।
ফারিণের বর্ণনায়, নানুবাড়িটি এখনো অনেকটা আগের মতোই আছে। বাড়ির রঙ কিছুটা মলিন হয়েছে, তবে কাঠামোটা পরিচিত। শান বাঁধানো ঘাটও আছে, যদিও পানির স্তর বেড়ে একটি সিঁড়ি ডুবে গেছে। বাড়ির জাম্বুরা গাছেও এবার ভালো ফলন হয়েছে। এমনকি পুরোনো মাটির সেই পরিচিত গন্ধটুকুও যেন একই রকম রয়ে গেছে।
তবে বদলে গেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি—সেখানে আর নেই ছোটবেলার সেই প্রাণচাঞ্চল্য। নেই ভাইবোনদের হইচই, অট্টহাসি কিংবা উঠানে ব্যাট-বল নিয়ে জমে ওঠা ক্রিকেটের আসর।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে ফারিণ লিখেছেন, ‘ছোটবেলার নানু বাড়িটা এখনো আগের মতোই। রঙিন বাড়ি শুধু রঙটা একটু ফিকে, শান বাঁধানো ঘাট তবে এক সিঁড়ি জল বেশি, জাম্বুরা গাছে এবার ফলন ভালো, মাটির পুরনো গন্ধ সবই আগের মতো। শুধু নেই কোলাহল, অট্টহাসি আর সেই পুরনো ক্রিকেট ম্যাচ। কারণ এখন দুধভাত হওয়ার বয়স শেষ।’
তার এই কথায় ধরা পড়েছে বেড়ে ওঠার এক চেনা বাস্তবতা। যে বয়সে নানুবাড়িতে ছুটে যাওয়া মানেই ছিল কাজিনদের সঙ্গে দিনভর খেলাধুলা, পুকুরঘাটে ছোটাছুটি আর বাড়ির উঠানে ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া, সেই সময় এখন অতীত। শৈশবের সঙ্গীরা কেউ কর্মজীবনে ব্যস্ত, কেউবা দেশের বাইরে—ফলে পুরোনো সেই জমজমাট পরিবেশ আর নেই।
স্থান-পরিবেশ খুব বেশি না বদলালেও মানুষের জীবন বদলে যাওয়ার বিষয়টিই যেন ফারিণের স্মৃতিচারণে সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়েছে। বাড়ির দেয়াল, ঘাট, গাছ আর মাটির গন্ধ অতীতকে ধরে রাখলেও সেই সময়ের মানুষগুলো আর আগের জায়গায় নেই।
বাংলার পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নানুবাড়ি কিংবা দাদুবাড়ির স্মৃতি বিশেষ আবেগের জায়গা দখল করে আছে। বড় হওয়ার পরও শৈশবের এসব জায়গা অনেকের কাছেই হয়ে ওঠে মানসিক আশ্রয়ের মতো। তাই ফারিণের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণও সহজেই ছুঁয়ে যেতে পারে সেইসব মানুষকে, যারা জীবনের ব্যস্ততায় পেছনে ফেলে এসেছেন নিজেদের শৈশব।
‘এখন দুধভাত হওয়ার বয়স শেষ’—ফারিণের এই উপলব্ধি তাই শুধু বয়স বাড়ার কথা নয়; এর মধ্যে লুকিয়ে আছে বদলে যাওয়া জীবন, দূরে সরে যাওয়া মানুষ আর একসঙ্গে কাটানো সেই নির্ভার দিনগুলোর জন্য মায়া।



