tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে স্কেল: যেভাবে ও যে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে স্কেল: যেভাবে ও যে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে স্কেল) নিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন পে স্কেল একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক

এর আগে সোমবার সকালে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এর সম্ভাব্য চাপ এবং সরকারের ওপর সামগ্রিক আর্থিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কত অর্থের প্রয়োজন হবে এবং এর ফলে বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এর আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল।

সেপ্টেম্বরে গেজেট, অক্টোবরে নতুন বেতন?

অর্থ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নবম পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি করা।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ

দেশের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং বাস্তবায়ন কৌশল বিবেচনায় সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

তবে কমিশনের মূল সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে।

চার ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের মূল বেতন ও ভাতা ধাপে ধাপে কার্যকর করা হতে পারে।

প্রথম ধাপ:
চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপ:
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মূল বেতনের আরও ৩৫ শতাংশ কার্যকর করা হতে পারে।

তৃতীয় ধাপ:
পরবর্তী অর্থবছরের জুলাই থেকে মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করার প্রস্তাব থাকতে পারে।

চতুর্থ ধাপ:
এরপর একই অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার সুপারিশ করা হতে পারে।

তবে এসব ধাপ ও সময়সূচি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং পরবর্তী সরকারি প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন বৃদ্ধির দাবি পূরণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে রাষ্ট্র