আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলো ম্যাচকে ঘিরে রেফারিং নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মিশর শিবির। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনা কি ফিফার কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ।
বিতর্কের শুরু ম্যাচের ৬০তম মিনিটে। মিশরের মোস্তফা জিকো গোল করলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিশরের মিডফিল্ডার মারওয়ান আত্তিয়া বল দখলের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জার্সি টেনে ধরেন এবং তার পায়ের ওপরও পা রাখেন। সেই ঘটনাকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করে গোলটি বাতিল করেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।
এরপর দ্বিতীয় বিতর্কের জন্ম হয় যোগ করা সময়ে। ৯০ মিনিটের পর এনসো ফার্নান্দেস গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন। তবে ম্যাচজুড়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল মহলে আলোচনা শুরু হয়।
এমন পরিস্থিতিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স–মরক্কো ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমকে প্রশ্ন করা হয়, আর্জেন্টিনা কি ফিফার কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে?
জবাবে দেশম বলেন, “না। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে, কিন্তু আমি এমন কিছু বিশ্বাস করি না। রেফারিরা নিয়োগ পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় রেফারিদের ওপর আস্থা রাখার চেষ্টা করি। তাদের কখনোই প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখি না। আমি বিশ্বাস করি, আগামী ম্যাচেও দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারিরা পেশাদারিত্বের সঙ্গেই ম্যাচ পরিচালনা করবেন।”
দেশমের মতে, ফুটবলে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থাকবেই এবং সেগুলো অনেক সময় সমর্থকদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে ভিন্নভাবে মূল্যায়িত হয়।
তার ভাষায়, “অবশ্যই এমন কিছু সিদ্ধান্ত থাকে যা বিতর্কের জন্ম দেয়। কিন্তু আমার কাছে প্রতিপক্ষ হলো মরক্কো, রেফারি নন। রেফারির কাজ হলো মাঠে খেলার নিয়ম সঠিকভাবে প্রয়োগ করা, আর আমি সেটিই প্রত্যাশা করি।”
আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। তবে ফ্রান্স কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে বিশ্বাস করেন না এবং ম্যাচ পরিচালনায় রেফারিদের নিরপেক্ষতার ওপরই আস্থা রাখছেন।



