tanaka

ডিসেম্বর ঘিরে রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা চলছে নানা হিসাব-নিকাশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত শব্দগুলোর একটি ‘ডিসেম্বর’। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে...
প্রচ্ছদজাতীয়সরকারি খরচে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফরে কড়াকড়ি, পরিপত্র জারি

সরকারি খরচে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফরে কড়াকড়ি, পরিপত্র জারি

ব্যয় সংকোচন ও সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা আপাতত বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর এবং সুদমুক্ত বিশেষ ঋণের মাধ্যমে গাড়ি কেনার সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় যানবাহন কেনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে। এছাড়া নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় যানবাহন কিনতে পারবে।

নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া প্রতিস্থাপন বা নতুনভাবে কেনা সব জিপ ও কার অবশ্যই ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (এফইভি) হতে হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুদমুক্ত বিশেষ ঋণের মাধ্যমে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার সুবিধাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও আরোপ করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। সরকারি অর্থায়নে কোনো ধরনের বিদেশি প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বা ওয়ার্কশপে অংশ নেওয়া যাবে না। তবে বিদেশি সরকার, উন্নয়ন সহযোগী বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। একইভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সংস্থা বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি বহাল থাকবে।

এছাড়া প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বিদেশি অংশ প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে। প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) বা ফ্যাক্টরি অ্যাক্সেপটেন্স টেস্ট (এফএটি)-এর মতো বিশেষ ক্ষেত্রে জটিল পণ্য পরিদর্শনের প্রয়োজন হলে কারিগরি বা বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বিবেচনা করা হবে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করার ওপর অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেটের আওতায় নতুন আবাসিক, অনাবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ করা যাবে না। তবে যেসব নির্মাণকাজ অন্তত ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে শেষ করা যাবে।

পরিচালন বাজেট থেকে ভূমি অধিগ্রহণে কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তবে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এবং অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় করা যাবে।

এছাড়া পরিচালন বাজেটের থোক বরাদ্দ থেকে কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। পরিকল্পনা কমিশনের অধীনে ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে সংরক্ষিত অর্থও অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যয় করা যাবে না। তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু শর্ত শিথিল করা হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় পরিপত্রে সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু ফর মানি’ বা অর্থের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।