tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজনীতিআমলারা কোনো দলের পক্ষ নিলে অতীতের মতো পরিণতি হতে পারে: এটিএম আজহার

আমলারা কোনো দলের পক্ষ নিলে অতীতের মতো পরিণতি হতে পারে: এটিএম আজহার

সরকারি কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভূমিকা নিলে অতীতে এমন কাজে জড়িতদের মতো পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।

রোববার (৩১ মে) বিকেলে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এটিএম আজহার বলেন, “যারা জুলাই আন্দোলন দেখেছেন, তারা সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। জনগণের সেবক হিসেবে আমলাদের কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভূমিকা নেওয়া উচিত নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের যে পরিণতি হয়েছে, ভবিষ্যতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।”

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীনদের সন্তুষ্ট করার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। এ কারণে তারা অনেক সময় নিরপেক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন।

সরকার বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলেও দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, “গত ঈদুল ফিতরের সময় সংবাদমাধ্যমে দেখেছি সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে উপহার বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে জানানো হয়নি। অথচ এসব অর্থ জনগণের এবং রাষ্ট্রের, কোনো দলের নয়।”

ঈদযাত্রা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এটিএম আজহার বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় যথাযথ শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়নি। ফলে ঘরমুখো মানুষেরা দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি কোরবানির পশুবাহী ট্রাক থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, এসব কারণে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রভাব ফেলেছে।

সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “গণভোটে জনগণের যে মতামত এসেছে, তা বাস্তবায়নের প্রশ্নে শুরু থেকেই প্রতারণা করা হয়েছে। সংবিধানের অজুহাতে জনগণের বৃহৎ অংশের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। জানান, এ লক্ষ্যে ১১ দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

এটিএম আজহার আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার সময় দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। সে সময় সীমান্তে বর্তমানের মতো পরিস্থিতি ছিল না।”

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে অনেকটাই সরে গেছে।

ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বিভিন্ন সময় উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন এবং বাংলাদেশে ‘পুশইন’ অব্যাহত থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি।

স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অভাবের কারণে এসব বিষয়ে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান নিতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন এটিএম আজহার। তার ভাষ্য, “স্বাধীন ও দৃঢ় পররাষ্ট্রনীতি থাকলে কোনো দেশই প্রতিবেশী দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারত না।”