রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে তদন্তে। মোহাম্মদপুরের বসিলা পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন টিটন। ওই দ্বন্দ্ব মীমাংসার আশ্বাস দিয়েই মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তাকে নিউমার্কেটের বটতলা এলাকায় ডেকে আনা হয়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এটি কোনো আকস্মিক হামলা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির পর টিটন তেমন কোনো পেশায় যুক্ত ছিলেন না। সম্প্রতি বসিলা হাটের ইজারা নেওয়ার জন্য তিনি শিডিউল কিনেছিলেন।
ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল ইমামুল হাসান পিচ্চি হেলাল ও তার সহযোগীরা। তারাও একই হাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রহী ছিলেন। এ নিয়ে হেলাল ও তার সহযোগী কাইলা বাদল, শাহজাহান ও ভাঙ্গাড়ি রনির সঙ্গে টিটনের বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সমঝোতার কথা বলে টিটনকে নিউমার্কেটে ডেকে আনা হলেও তাকে হত্যার পরিকল্পনা আগেই করা হয়। মোটরসাইকেলে করে আসা চারজন শুটার মুখে মাস্ক ও মাথায় টুপি পরে সেখানে অবস্থান নেয়। তাদের মধ্যে দু’জন গুলি চালায়, আর বাকি দু’জন অস্ত্র ও মোটরসাইকেল নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পুরো ঘটনার সমন্বয় করে কাইলা বাদল।
গুলি চালানোর পর স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে বিডিআর ৩ নম্বর গেটের কাছে শাহজাহান মোটরসাইকেলের মাধ্যমে হামলাকারীদের পালাতে সহায়তা করে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন নিউমার্কেট থানায় ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট টিটন জামিনে মুক্তি পান। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং সম্প্রতি তিনি বসিলা হাটের ইজারা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। হত্যার কয়েকদিন আগে তিনি প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেন এবং সমঝোতার আশাও ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সন্ত্রাসীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে এবং জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।



