রাজধানীর পৃথক দুটি স্থানে বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বাড্ডার নতুন বাজার এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। অন্যদিকে, সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত বাসে আগুন লাগার ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বাড্ডার নতুন বাজারে কোকাকোলা গেটের বিপরীত পাশে বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আগুন নেভানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ডিএমপির বাড্ডা জোনের এডিসি আল আমিন হোসাইন জানান, বাসটি যাত্রী নামিয়ে প্রগতি সরণির কোকাকোলা ক্রসিং দিয়ে ইউটার্ন নিচ্ছিল। এ সময় বাসের হেলপার চালককে বাস ঘোরাতে সহায়তা করছিলেন। ঠিক তখনই মোটরসাইকেলে আসা এক যুবক বাসটিতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় এ ঘটনায় কেউ হতাহত বা দগ্ধ হননি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসটির চালক ও হেলপারকে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অগ্নিসংযোগে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে বাসে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, একই দিন দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
রমনা থানার ওসি মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকে ওই বাসে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি কোনো নাশকতার ঘটনা নয়। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেও কাউকে আগুন লাগাতে দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরাও এমন কিছু দেখেননি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করছে পুলিশ।



