সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদের সব বিষয় বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যেসব বিষয়ে সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম শামসুল হুদার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এ স্মরণসভার আয়োজন করে।
খুলনায় বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দলকে সংসদে আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা সংসদে এসে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের পথে না গিয়ে তারা নিজেদের দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের সংবিধান প্রণীত হয়েছে এবং সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন পর্যায়ে এতে সংশোধন আনা হয়েছে। জুলাই সনদের যেসব বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। অন্যদিকে, যেসব বিষয় সাধারণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব, সেগুলো জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমেই কার্যকর করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল সফরের পাশাপাশি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, ঋণ, অনুদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার ফলে দেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশে এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে রিজভী বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের হাতে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছালে তারা হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে। এর ফলে দারিদ্র্য হ্রাসের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়ছে।
রিজভী প্রশ্ন তুলে বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য বিএনপি সরকার দায়ী, নাকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়ী? বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হলেও সরকার বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বিএনপি সত্য, ন্যায় ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন।
স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান, সাহসী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তাঁর মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অবদান বিএনপি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন প্যারট ও মাসুদ হোসেন।



