tanaka
প্রচ্ছদরাজনীতিফখরুলের সম্মতি ছাড়া বিদ্যুৎ খাতের টেন্ডারে অংশ নেওয়া কঠিন ছিল, অভিযোগ সূত্রের

ফখরুলের সম্মতি ছাড়া বিদ্যুৎ খাতের টেন্ডারে অংশ নেওয়া কঠিন ছিল, অভিযোগ সূত্রের

বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বিরুদ্ধে। সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে তিনি কাজ করতেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের। সূত্রটির অভিযোগ, ফখরুলের সম্মতি ছাড়া অনেক ঠিকাদারের পক্ষে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া কঠিন ছিল। সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং তদবিরের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের পাশাপাশি সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতের লাভজনক প্রকল্পগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজী ফখরুল। কোন ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নিতে পারবেন, কে কাজ পাবেন এবং কোন প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে ওই চক্র প্রভাব খাটাত বলে অভিযোগ রয়েছে। ফখরুলের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ না পেলে ঠিকাদারদের দরপত্র জমা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত বলে দাবি সূত্রটির।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের কাজ বণ্টন এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল চক্রটি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন লাভজনক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং তদবিরের বিনিময়ে বিপুল অর্থ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব দাবির সমর্থনে নির্দিষ্ট দরপত্রের নথি, আর্থিক লেনদেনের দলিল কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজী ফখরুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি বাংলাদেশ ছাড়েন। পরে প্রথমে মালয়েশিয়া এবং এরপর থাইল্যান্ডে অবস্থান নেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে থাইল্যান্ডে থেকে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সিন্ডিকেটের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।