tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশমোবাইলে ৪জি ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে যে ৫টি বিষয় পরীক্ষা করবেন

মোবাইলে ৪জি ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে যে ৫টি বিষয় পরীক্ষা করবেন

মোবাইলে ৪জি ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে যে ৫টি বিষয় পরীক্ষা করবেন

মোবাইল ফোনে ৪জি নেটওয়ার্কের পূর্ণ সিগন্যাল দেখা গেলেও অনেক সময় ইন্টারনেট চলে ধীরগতিতে। ওয়েবসাইট খুলতে দেরি, ভিডিও চালানোর সময় বারবার বাফারিং কিংবা ফাইল ডাউনলোডে দীর্ঘ অপেক্ষা—এ ধরনের সমস্যায় পড়েন অনেক ব্যবহারকারী। দুর্বল নেটওয়ার্ক কভারেজ, অপারেটরের নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ, ডেটা প্যাকেজের সীমা কিংবা ফোনের সেটিংসের ত্রুটি এর কারণ হতে পারে। কয়েকটি বিষয় যাচাই করে দেখলে সমস্যার কারণ শনাক্ত করা এবং গতি উন্নত করা সহজ হতে পারে।

১. এপিএন সেটিংস সঠিক আছে কি না দেখুন

অ্যাকসেস পয়েন্ট নেম বা এপিএন হলো মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস। এপিএনের তথ্য ভুল বা পরিবর্তিত থাকলে সংযোগে সমস্যা হতে পারে। তাই প্রথমে ফোনে সেট করা এপিএন অপারেটরের নির্ধারিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

বাংলাদেশের কয়েকটি মোবাইল অপারেটরের এপিএন তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

  • গ্রামীণফোন: এপিএন নাম GP-INTERNET, এপিএন gpinternet
  • রবি ও এয়ারটেল: এপিএন নাম Robi-INTERNET, এপিএন internet
  • বাংলালিংক: এপিএন নাম Banglalink Internet, এপিএন blinternet
  • টেলিটক: এপিএন নাম Teletalk Internet, এপিএন teletalk

এপিএন যাচাই করতে ফোনের সেটিংসে গিয়ে ‘মোবাইল নেটওয়ার্ক’ বিভাগ খুলুন। এরপর ‘অ্যাকসেস পয়েন্ট নেম’ বা ‘এপিএন’ অপশনে প্রবেশ করে তথ্য পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে অপারেটরের কাছ থেকে সঠিক সেটিংস নিশ্চিত হয়ে তা নির্বাচন করুন। এরপর ফোন পুনরায় চালু করে ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা করতে পারেন। তবে এপিএন সঠিক থাকলে শুধু সেটি পরিবর্তন করলেই যে গতি বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

২. নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ থাকলে বিকল্প সময় বেছে নিন

একই এলাকার অনেক মানুষ একসঙ্গে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করলে নেটওয়ার্কে চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে কোনো কোনো এলাকায় ইন্টারনেটের গতি কমে যায়, যদিও ফোনে ৪জি সিগন্যাল দেখা যায়।

এমন পরিস্থিতিতে সম্ভব হলে কম ব্যস্ত সময়ে বড় ফাইল ডাউনলোড বা অনলাইন ভিডিও দেখার চেষ্টা করুন। বিকল্প হিসেবে নির্ভরযোগ্য ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহার করতে পারেন। তবে ইন্টারনেট ধীর হওয়ার পেছনে নেটওয়ার্কের চাপ ছাড়াও অন্য কারণ থাকতে পারে।

৩. নেটওয়ার্ক মোডে ৪জি বা এলটিই নির্বাচন করুন

ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংসে ভুল করে ৩জি বা অন্য কোনো মোড নির্বাচন করা থাকলে ৪জি সেবা ব্যবহার করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই ফোনে ৪জি সমর্থন থাকলে নেটওয়ার্ক মোডটি পরীক্ষা করুন।

এ জন্য সেটিংস থেকে ‘মোবাইল নেটওয়ার্ক’ বা ‘নেটওয়ার্ক’ বিভাগে যান। সেখানে ‘প্রেফারড নেটওয়ার্ক টাইপ’ অপশনে গিয়ে ৪জি বা এলটিই নির্বাচন করুন। ফোনের মডেলভেদে সেটিংসের নাম কিছুটা আলাদা হতে পারে।

তবে ৪জি ব্যবহার করতে ফোন ও সিমে এ সুবিধা থাকতে হবে এবং আপনার এলাকায় অপারেটরের ৪জি নেটওয়ার্কের আওতা থাকতে হবে।

৪. সিগন্যাল দুর্বল হলে অবস্থান পরিবর্তন করুন

ঘরের ভেতর, বেসমেন্টে কিংবা উঁচু ভবনের কিছু অংশে মোবাইল নেটওয়ার্কের সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। দেয়াল ও আশপাশের স্থাপনাও সংযোগের মানকে প্রভাবিত করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে জানালার কাছে বা খোলা জায়গায় গিয়ে ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা করুন। ফোনে মোটা বা ধাতব কেস ব্যবহার করলে সেটি খুলেও পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। তবে মূল সমস্যা যদি অপারেটরের কভারেজে হয়, তাহলে শুধু অবস্থান পরিবর্তন করে সব সময় ভালো গতি পাওয়া যাবে না।

৫. ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা খরচ করা অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

ফোনে ব্যবহার না করলেও কিছু অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও অটোপ্লে, স্বয়ংক্রিয় অ্যাপ আপডেট এবং ক্লাউডে ফাইল আপলোডের মতো কাজেও ডেটা খরচ হতে পারে।

এ ধরনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও অটোপ্লে নিষ্ক্রিয় রাখুন এবং অ্যাপের স্বয়ংক্রিয় আপডেটের সেটিংস পরীক্ষা করুন। পাশাপাশি ফোনের সফটওয়্যার হালনাগাদ আছে কি না, সেটিও দেখে নিন।

এতেও গতি না বাড়লে কী করবেন?

সব সেটিংস ঠিক থাকার পরও ইন্টারনেট ধীর থাকলে মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করুন। আপনার ডেটা প্যাকেজের সীমা শেষ হয়েছে কি না, সিমে কোনো সমস্যা আছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ কেমন—এসব বিষয়ে খোঁজ নিন।

মনে রাখবেন, ফোনে পূর্ণ ৪জি সিগন্যাল থাকলেই দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত হয় না। নেটওয়ার্কের সক্ষমতা, একই সময়ে সংযুক্ত ব্যবহারকারীর সংখ্যা, ফোনের সামর্থ্য ও সেটিংস—সবকিছু মিলিয়েই ইন্টারনেটের গতি নির্ধারিত হয়।