tanaka

হঠাৎ অসুস্থ সোনালি দিনের নায়ক মাহমুদ কলি, চাইলেন দোয়া

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের জনপ্রিয় নায়ক মাহমুদ কলি অসুস্থ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকতিউনিশে অবতরণের সময় তুর্কি বিমানে ভয়াবহ পরিস্থিতি

তিউনিশে অবতরণের সময় তুর্কি বিমানে ভয়াবহ পরিস্থিতি

তিউনিশিয়ায় ভূমধ্যসাগরের গ্রীষ্ম উপভোগ করতে যাচ্ছিলেন তুরস্কের একটি যাত্রীবাহী বিমানের যাত্রীরা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তারা।

তিউনিশের কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট। এ সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনির পাশাপাশি বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি গত সপ্তাহের। তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে তিউনিশের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া তুর্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট টিকে-৬৬১ তিউনিশের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে।

বিমানের যাত্রী মারিনা মাইস্কায়া ওই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবল ঝড়ের কারণে বিমানটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপছে। আতঙ্কিত যাত্রীরা নিজেদের আসন শক্ত করে ধরে আছেন। পুরো কেবিনজুড়ে চিৎকার ও কান্নার শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে এক যাত্রীকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘আমরা মারা যাব।’

পরে মাইস্কায়া তার সামনের সিটের পেছনে থাকা পর্দার দিকে ক্যামেরা ঘোরান। সেখানে বিমানের গতিপথের তথ্য দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, অবতরণের আগে বিমানটি একটি নির্দিষ্ট এলাকার চারপাশে চক্কর দিচ্ছিল।

মাইস্কায়া জানান, দিনের বেলায় ইস্তাম্বুল থেকে বিমানটি যাত্রা শুরু করেছিল এবং যাত্রার বেশির ভাগ সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। তবে তিউনিশে অবতরণের সময় পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, বিমান নিচে নামতে শুরু করার পরই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জীবনে এর আগে কখনো এতটা ভয় পাননি বলেও জানান তিনি। তার মা-ও ওই বিমানে তার সঙ্গে ছিলেন।

মাইস্কায়ার ভাষ্য অনুযায়ী, কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য পাইলট তিনবার চেষ্টা করেন। প্রতিবারই বিমানটিকে প্রবল ঝড়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অবতরণের প্রতিটি প্রচেষ্টার সময় বিমানটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপছিল।

তৃতীয়বার অবতরণের সময় বিমানটি নিচের দিকে নামতে শুরু করলে যাত্রীদের আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তাদের আশঙ্কা হয়, পাইলট আবারও একই বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করতে পারেন। এতে আবারও ঝড়ের মধ্যে পড়তে হবে—এমন আশঙ্কায় যাত্রীরা পাইলটকে অন্য কোনো বিমানবন্দর বা দেশে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে থাকেন।

পরে যাত্রীদের অনুরোধের পর বিমানের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ না করে বিমানটি তিউনিশ থেকে প্রায় ৬০ মাইল বা ৯৭ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এনফিধা-হাম্মামেত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত বিমানটি ওই বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় এবং সব যাত্রী নিরাপদে বিমান থেকে নামতে পারেন।

ঘটনার পর পাইলটদের প্রশংসা করেন মাইস্কায়া। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত তারা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। তার মতে, তুর্কিশ এয়ারলাইনসের পাইলটদের দক্ষতার কারণেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও নিরাপদে অবতরণ সম্ভব হয়েছে।