tanaka

ইরানে ৫০ ঘণ্টা আটকে থাকার লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা জানালেন মার্কিন কর্নেল

ইরানের আকাশে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর প্রায় ৫০ ঘণ্টা দেশটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে ছিলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্নেল ডুড ৪৪ ব্রাভো। গুরুতর আহত অবস্থায়...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকসৌদিতে হুথি হামলার নিন্দা, রিয়াদকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস শাহবাজের

সৌদিতে হুথি হামলার নিন্দা, রিয়াদকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস শাহবাজের

সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। একই সঙ্গে সৌদি নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সংহতি ও সমর্থনের কথা জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে শাহবাজ শরীফ এসব কথা বলেন।

আলাপকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, হুথিদের হামলা শুধু আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সংঘাত মোকাবিলা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৌদি যুবরাজের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন তিনি।

জবাবে মোহাম্মদ বিন সালমান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সম্প্রতি সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরের পর সৌদি ভূখণ্ডে হুথি হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের বক্তব্য ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানের নিজস্ব নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে—এমন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ইসলামাবাদ পরে অবস্থান স্পষ্ট করে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মূলত আত্মরক্ষামূলক। ফলে কোনো পক্ষ আক্রান্ত হলেই পাকিস্তানকে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা চুক্তিতে নেই।

এ অবস্থায় সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার অংশ হিসেবেই শাহবাজ শরীফের এই ফোনালাপকে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন শাহবাজ শরীফ। গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকের কয়েক দিন আগে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই ফোনালাপকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ একটি সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইয়েমেনের সংঘাত ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হুথি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা এবং লোহিত সাগর ও বাব এল-মানদেব প্রণালীর আশপাশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের সংঘাতও আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।