tanaka

একনেকের সভায় অনুমোদনের জন্য উঠছে ১৫ উন্নয়ন প্রকল্প

২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় সভায় ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল...
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদনহঠাৎ অসুস্থ সোনালি দিনের নায়ক মাহমুদ কলি, চাইলেন দোয়া

হঠাৎ অসুস্থ সোনালি দিনের নায়ক মাহমুদ কলি, চাইলেন দোয়া

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের জনপ্রিয় নায়ক মাহমুদ কলি অসুস্থ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়েছেন তিনি।

আশি-নব্বই দশকের সিনেমাপ্রেমী দর্শকের কাছে মাহমুদ কলি ছিলেন পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। ‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’, ‘দেশ বিদেশ’ ও ‘নেপালি মেয়ে’র মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে জায়গা করে নেন। সে সময় বিদেশে শুটিং হওয়া সিনেমা মানেই মাহমুদ কলির উপস্থিতি—এমন একটি আলাদা পরিচিতিও তৈরি হয়েছিল তার।

আশির দশকে সামাজিক, রোমান্টিক ও ফ্যান্টাসিধর্মী বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান মাহমুদ কলি। রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক এবং পরবর্তী সময়ে ইলিয়াস কাঞ্চন ও জাফর ইকবালের মতো জনপ্রিয় নায়কদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। সুঠাম দেহ, আকর্ষণীয় চেহারা ও স্টাইলিশ উপস্থিতি তাকে সমসাময়িক অনেক নায়কের চেয়ে আলাদা করে তুলেছিল।

গতকাল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মাহমুদ কলি লেখেন, ‘প্রিয় বন্ধু, বিনীতভাবে দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি।’

তবে পোস্টে নিজের অসুস্থতার বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে তার এই পোস্টের পর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মন্তব্য করেছেন।

সত্তরের দশকের শেষ দিকে চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার শুরু করেন মাহমুদ কলি। তার পারিবারিক নাম মাহমুদুর রহমান উসমানী। স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা আজিজুর রহমান বুলি তার বড় ভাই। মূলত বড় ভাইয়ের হাত ধরেই চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি।

মাহমুদ কলির প্রথম চলচ্চিত্র ‘মাস্তান’, যেখানে তিনি সহ-অভিনেতার ভূমিকায় অভিনয় করেন। এরপর ১৯৭৮ সালে অশোক ঘোষ পরিচালিত ‘তুফান’ চলচ্চিত্রে মূল নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

মাহমুদ কলির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মোট ৬১টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে দুটি সিনেমা মুক্তি পায়নি। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’, ‘গোলমাল’, ‘নেপালি মেয়ে’, ‘শ্বশুরবাড়ি’, ‘সুপারস্টার’, ‘গ্রেফতার’, ‘খামোশ’, ‘মহান’, ‘দেশ বিদেশ’ ও ‘মা বাপ’।

শাবানা, ববিতা, রোজিনা, অলিভিয়া, দিতি, চম্পা, অঞ্জনা, সুচরিতা ও নূতনসহ সে সময়ের বহু জনপ্রিয় নায়িকার বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। কলকাতার অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়ের বিপরীতেও ‘সবার উপরে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন মাহমুদ কলি। ছবিটি পরিচালনা করেন শওকত জামিল।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রশিল্পীদের অধিকার ও কল্যাণেও যুক্ত ছিলেন মাহমুদ কলি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও একাধিক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্রের পর্দা থেকে নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে নেন এই অভিনেতা। বর্তমানে ব্যবসা ও পরিবার নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নিয়মিত অভিনয়ে না থাকলেও ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ের দর্শক ও সহকর্মীদের কাছে মাহমুদ কলি এখনো একটি পরিচিত ও প্রিয় নাম।