tanaka
প্রচ্ছদলাইফস্টাইলভালো-মন্দ খাওয়ার পর ঘুম পায় কেন?

ভালো-মন্দ খাওয়ার পর ঘুম পায় কেন?

ভরপেট খাওয়ার পর অনেকেরই শরীরে ক্লান্তি নেমে আসে। চোখে ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয়, কাজে মন বসে না। তখন একটু ঘুমিয়ে নিতে ইচ্ছা করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে খাওয়ার পর এমন তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থাকে বলা হয় ‘পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল সোমনোলেন্স’। সাধারণভাবে একে ‘ফুড কোমা’ বলা হয়।

‘ফুড কোমা’ কেন হয়?

অনিয়মিত জীবনযাপন, প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং একবারে বেশি পরিমাণে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে খাওয়ার পর ঘুম ঘুম ভাবের সম্পর্ক রয়েছে।

ভারী খাবার খেলে শরীরকে তা হজম করতে বেশি কাজ করতে হয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমও বাড়ে। এর ফলে খাওয়ার পর সাময়িকভাবে অলসতা ও তন্দ্রাভাব দেখা দিতে পারে।

এর সঙ্গে হরমোনের পরিবর্তনেরও সম্পর্ক রয়েছে। কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে খেলে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়তে পারে। ভাত বা রুটি, মাংস, সবজি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার একসঙ্গে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে এই প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।

খাবারের পর শরীরে ইনসুলিন ও বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিডের বিপাকের পরিবর্তন মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিকের ওপর প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন ঘুম ও শিথিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে ভারী খাবারের পর অনেকের ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয়।

কারা বেশি ভোগেন?

খাওয়ার পর অতিরিক্ত তন্দ্রাভাব যেকোনো মানুষেরই হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর প্রবণতা বেশি দেখা যায়। যেমন—

  • দুপুরে অতিরিক্ত শর্করা বা চর্বিযুক্ত খাবার খেলে।
  • নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা অনিদ্রার সমস্যা থাকলে।
  • রাত জাগার অভ্যাস থাকলে কিংবা গভীর রাতে বেশি পরিমাণে জাঙ্ক ফুড খেলে।
  • শারীরিক পরিশ্রম বা নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস না থাকলে।
  • অতিরিক্ত ওজন, টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা অবসাদের মতো সমস্যা থাকলে।
  • কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের কারণে অতিরিক্ত তন্দ্রাভাব তৈরি হলে।

কীভাবে কমাবেন?

সাধারণত খাবার খাওয়ার পর ঘুম ঘুম ভাব কোনো জটিল রোগের লক্ষণ নয় এবং এর জন্য আলাদা ওষুধের প্রয়োজন হয় না। জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলেই অনেক ক্ষেত্রে এ সমস্যা কমানো যায়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, একবারে অনেক বেশি খাবার না খেয়ে পরিমাণে কম এবং সুষম খাবার খাওয়া ভালো। অতিরিক্ত শর্করা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখা যেতে পারে।

খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করাও উপকারী। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান এবং রাতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

তবে খাওয়ার পর প্রতিদিনই যদি অতিরিক্ত ঘুম পায়, দীর্ঘ সময় ধরে ক্লান্তি থাকে বা এর সঙ্গে মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা কিংবা বারবার প্রস্রাবের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।