রাজধানীর ফার্মগেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার মো. মহিবুল্লাহ মুবিনকে (২৯) সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে মুবিনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুর রহমান।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মুবিনের সঙ্গে থাকা পলাতক সহযোগীদের পরিচয়, নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা এবং তিনি কার নির্দেশে বা প্ররোচনায় ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ ছাড়া ঘটনার আগে ও পরে তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা যাচাই করতেও পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, মুবিনের কাছ থেকে জব্দ করা দুটি পাসপোর্টের মালিকানা ও ব্যবহারের কারণ এবং মোটরসাইকেলটি কোথা থেকে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের স্বার্থে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী রবিউল ইসলাম জুয়েল রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, মুবিন সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই।
আইনজীবীর দাবি, শখের বশে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি দেখার জন্য মুবিন গাড়িবহরের সামনে গিয়েছিলেন। তার কাছে নাশকতা করার মতো কোনো সরঞ্জাম ছিল না। তাই যেকোনো শর্তে তার জামিনের আবেদন করেন তিনি।
এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, মুবিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। গত এক মাসে তার ফেসবুক পোস্টে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষে বক্তব্য এবং বিভিন্ন ইস্যুতে লেখালেখি করতে দেখা গেছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে তেজগাঁও থানার মনিপুরীপাড়ায় কেআইবি অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে মুবিনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় সেখানে ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা চলছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তখন অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করছিলেন।
গ্রেফতারের সময় মুবিনের কাছ থেকে একটি ইয়ামাহা এফজেডএস-১৫০ সিসি মোটরসাইকেল, দুটি পাসপোর্ট, দুটি অপ্পো মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।



