খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বই শুধু জ্ঞান দেয় না; এটি মানুষের চিন্তার শক্তি বাড়ায়, ইতিহাস ধারণ করতে শেখায় এবং ভবিষ্যতের পথ দেখায়। ইতিহাস না জানলে বর্তমানকে বোঝা যায় না, আর বর্তমান না বুঝলে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে পড়তে, জানতে ও ভাবতে হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর পঞ্চম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বইমেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। পাঠাগার শুধু বই পড়ার জায়গা নয়, এটি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার স্থান এবং নতুন প্রজন্মকে বইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার অন্যতম মাধ্যম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ বইমেলার মাধ্যমে বই পড়ার উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে আফরোজা খানম বলেন, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চিন্তার ইতিহাসে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর রাজনীতি, রাষ্ট্রচিন্তা ও দেশ গঠনের ভাবনা জানতে হলে তাঁর লেখা বই পড়তে হবে।
তিনি বলেন, ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ‘আমার রাজনীতির রূপরেখা’সহ বিভিন্ন গ্রন্থে একটি বিশেষ সময়ের ইতিহাস, জিয়াউর রহমানের জীবন ও চিন্তাধারা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশ সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বই অতীতের দরজা খুলে দেয়, বর্তমানকে বুঝতে শেখায় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শেখায়।’
এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাঁর জীবন ও সংগ্রামকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম’ বইটি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস জানতে আগ্রহীদের এ ধরনের বই পড়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানান খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা, জ্ঞান, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না। নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে, বুঝতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে এবং পৃথিবীকে জানার চেষ্টা করতে হবে। আর জ্ঞান অর্জনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো বই।
নিজের বাবার লেখা বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে আফরোজা খানম বলেন, ‘আমার বাবার এই বইটি যখন আমি পড়ি, তখন মনে হয় বাবা আমার পাশে আছেন। মনে হয়, চারপাশ থেকে বাবা আমাকে দেখছেন।’
অনুষ্ঠানে বাবার লেখা বই থেকে একটি অংশ পাঠ করে তিনি বলেন, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর মেজর জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। সে সময় অনেকের মধ্যে একজন সৎ, নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাধারণ জীবনযাপন করতেন, বিলাসিতা পছন্দ করতেন না এবং সাধারণ মানুষের উন্নতির কথা ভাবতেন। তাঁর সততা ও সাদাসিধে জীবনযাপনের বিভিন্ন স্মৃতিও তিনি তুলে ধরেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রান্তিকালে একটি পরিবারের তিনজন মানুষ ভিন্ন তিনটি সময়ে দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন।’
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের জন্য ১০০টি বই উপহার দেন খাদ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ড. মাহদী আমীন। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জ্ঞানার্জন ও মননশীলতা বিকাশে বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট এমপি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপি মাহামুদা হাবিবা, অধ্যাপক ড. হারুন আল রশিদ ও সাঈদ মাহমুদ জুয়েল।



