tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই যুগোপযোগী হবে কোম্পানি আইন: বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই যুগোপযোগী হবে কোম্পানি আইন: বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতেই কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ‘এই আইন মূলত ব্যবহার করবেন ব্যবসায়ীরাই। তাই তাঁদের প্রয়োজন, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদার ভিত্তিতেই আইনটিকে যুগোপযোগী করতে হবে।’

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধন-২০২৬-এর খসড়া নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানি আইনে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এদিকে ব্যবসা পরিচালনার ধরন, প্রযুক্তি, বিনিয়োগের কাঠামো এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তাই বর্তমান বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি আধুনিক করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

আইনটি তাড়াহুড়ো করে চূড়ান্ত করা হবে না জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আইনটি ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রস্তুতি ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি জানান, খসড়া সংশোধনী পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে এই সময় আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে দ্রুত মতামত দিয়ে কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব আইন প্রণয়নে সহযোগিতা করার জন্য ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কার্যকর কোম্পানি আইন পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে যেসব দেশে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব, সেসব দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

এলডিসি উত্তরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সংস্কারের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোম্পানি আইন সংস্কার বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতকে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা সহজ করা গেলে বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।

ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের আইন ও ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে এমন প্রস্তাব দিতে হবে, যা বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

সভায় ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (তৃতীয় সংশোধন-২০২৬)’-এর খসড়া প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), এপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বারবিডার সভাপতি আবদুল হক এবং ট্রান্সকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।