বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য বা হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ এবং নির্বাচিত সরকার দেশের জন্য যা ভালো মনে করবে, সেটিই ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরা অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমাদের তা বলাও উচিত নয়। দেশের জনগণ যা ভালো মনে করেন এবং বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার যা ভালো মনে করে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’
সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি মতবিনিময় সভায় প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকার ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর এবং দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করে।
এর আগে ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ চলছিল। তবে নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের উচিত জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ককে আরও গুরুত্ব দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করা। ‘আমরা জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক চাই। সাধারণ মানুষের জন্য যা ভালো, তা করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে,’ বলেন তিনি।
দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতকে একে অপরের চ্যালেঞ্জগুলো বিবেচনায় নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন একটি স্বপ্নের কথা বলি, তখন তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও বেড়ে যায়। আমরা প্রতিবেশী দেশ, তাই আমাদের দায়িত্ব আরও বেশি।’
তিনি আরও বলেন, দুই দেশ সমান মর্যাদার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে চায়। কারও বড় বা ছোট হওয়ার বিষয় নেই। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জগুলো ভারতকে যেমন বিবেচনায় নিতে হবে, তেমনি ভারত যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি, বাংলাদেশকেও সেগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরা অতীতকে ভুলতে পারি না, তবে অতীতে আটকে থাকার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমরা যদি সেখানে আটকে থাকি, তাহলে উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’
এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।



