tanaka
প্রচ্ছদরাজনীতিছাত্রদল থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি: আমানউল্লাহ আমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা

ছাত্রদল থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি: আমানউল্লাহ আমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন চার সদস্যের মধ্যে রয়েছেন—অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমানউল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলোতে তাদের মনোনীত করেন।

ছাত্ররাজনীতি থেকেই নেতৃত্বের শুরু

১৯৬২ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন আমানউল্লাহ আমান। তার বাবা মেঘু মিয়া এবং মা করিমন নেসা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ই তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলার সূচনা।

ছাত্রজীবনেই নেতৃত্বের দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন।

ডাকসুর নেতৃত্ব তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করে এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের পথ তৈরি হয়।

১৯৯১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমানউল্লাহ আমান। ওই নির্বাচনে ৯৭ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তফা মোহসিন মন্টুকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

নির্বাচনি রাজনীতিতে সাফল্যের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও তার গুরুত্ব বাড়তে থাকে।

দুই মেয়াদে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে আমানউল্লাহ আমান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

এরপর ২০০১ সালে বিএনপি আবার সরকার গঠন করলে তাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

দুই মেয়াদে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সক্রিয়

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন আমানউল্লাহ আমান। বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, এসব পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি পান।

কেরানীগঞ্জে শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি

কেরানীগঞ্জে আমানউল্লাহ আমানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে এলাকায় তার শক্তিশালী জনভিত্তি তৈরি হয়েছে।

চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ঢাকা-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ নির্বাচনি ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত কোনো সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হননি বলে তার রাজনৈতিক অনুসারীদের দাবি।

দলীয় নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন আমানউল্লাহ আমান।

তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু করে ডাকসুর নেতৃত্ব, সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং পরে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে জায়গা পাওয়া—তার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

স্থায়ী কমিটিতে নতুন অধ্যায়

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার পর এবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হলেন আমানউল্লাহ আমান।

দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অংশ হিসেবে নতুন সদস্যদের স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় সংসদ, মন্ত্রিত্ব থেকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম—আমানউল্লাহ আমানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায়।