tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাদক বিক্রির অভিযোগ, দারাজের বিরুদ্ধে নারকোটিক্সের মামলা

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাদক বিক্রির অভিযোগ, দারাজের বিরুদ্ধে নারকোটিক্সের মামলা

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক বিক্রির অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলাটি করা হয়। এর আগে রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে দারাজের একজন পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে নারকোটিক্সের গোয়েন্দা শাখা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সম্প্রতি সংশোধিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা, সরবরাহ, প্রচার বা লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সংশোধিত আইনের আওতায় এটিই প্রথম মামলা।

সিবিডি অয়েল নিয়ে সন্দেহ

নারকোটিক্স সূত্রে জানা গেছে, দারাজের ওয়েবসাইটে ‘সিবিডি অয়েল’ নামে একটি পণ্য বিক্রির তথ্য তাদের নজরে আসে। বিষয়টি যাচাই করতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কয়েক দফায় ওই পণ্য অর্ডার করেন। পরে দারাজের ডেলিভারি ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্যটি তাদের হাতে পৌঁছায়।

নমুনাগুলো রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানোর পর এতে উচ্চমাত্রায় টিএইচসি থাকার তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে নারকোটিক্স। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিএইচসি গাঁজা থেকে পাওয়া একটি মাদকীয় উপাদান।

সরবরাহকারীর স্থাপনায় অভিযান

পণ্যের নমুনা পরীক্ষার পর সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীর উৎপাদনস্থলে অভিযান চালানো হয়। রোববার বাড্ডার সাতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কথিত সিবিডি অয়েল এবং এর উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নারকোটিক্স।

অভিযানে পণ্যটির সরবরাহকারী ও কথিত উৎপাদনকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, আনিসুর রহমান দীর্ঘ সময় জাপানে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে থাকাকালে গাঁজার তরল উপাদান ব্যবহার করে তেল তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি ধারণা পান। দেশে ফেরার পর সুগন্ধি সাবান তৈরির আড়ালে ওই ধরনের পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হন বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক বিক্রিতে কঠোর নজরদারি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ জানিয়েছেন, অনলাইনে মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষ্য, সংশোধিত আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে।

মামলাটি এখন তদন্তাধীন। অভিযোগগুলোর সত্যতা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সংশ্লিষ্টতা এবং পণ্যটির সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে কারা জড়িত—তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় নির্ধারণ করা হবে।