tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়সরকারের এই পথচলা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতারই প্রত্যক্ষ প্রতিফলন: মাহদী আমিন

সরকারের এই পথচলা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতারই প্রত্যক্ষ প্রতিফলন: মাহদী আমিন

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত হয়েছে। নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার শপথ নেয়। সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমে জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে সোমবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার সময় এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গঠিত সরকারের প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল এবং নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস জনগণ।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনের পরপরই সরকারের ইশতেহারের পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’, বিএনপির ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফার আলোকে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা এবং দেশব্যাপী খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

পবিত্র রমজান ও ঈদে কৃত্রিম সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধে সম্প্রতি ২ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলে জানান।

মাহদী আমিন আরও বলেন, জাতীয় সংসদে রেকর্ডসংখ্যক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তি, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিতির সুযোগসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ক্রীড়া ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং ঢাকায় ২০০টি ইলেকট্রিক বাস ও এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত পুলিশ ও প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভ্রমণ সতর্কতার দ্বিতীয় ধাপে উন্নীত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বহুল আলোচিত বিভিন্ন মামলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে মাহদী আমিন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে সরকার মর্যাদাপূর্ণ, ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান।

এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়ালসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।