tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদসারাদেশদেশে প্রতি চার শিশুর একজন খর্বকায়, পুষ্টি সংকট মোকাবিলায় জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

দেশে প্রতি চার শিশুর একজন খর্বকায়, পুষ্টি সংকট মোকাবিলায় জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি চারটি শিশুর মধ্যে একটি শিশু বয়সের তুলনায় খর্বকায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খাদ্যের ঘাটতি নয়—অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানির অভাব, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধির ঘাটতিও শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধিতে বড় প্রভাব ফেলে।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পুষ্টি অন্তর্ভুক্তকরণ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব’ বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুষ্টিবিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকেরা। বৈঠকের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক পুষ্টিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ফাউন্ডেশন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপের (বিডিএইচএস) তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৪ শতাংশ শিশুর উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম। এছাড়া ১৩ শতাংশ শিশু কৃশকায়। একই সঙ্গে ৫৩ শতাংশ গর্ভবতী নারী রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এবং প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের ৫৬ শতাংশ স্থূলতার সমস্যায় রয়েছেন।

ব্র্যাকের ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের সচিবালয়প্রধান সায়কা সিরাজ বলেন, দেশে পুষ্টি সমস্যার সমাধানে পরিবার ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মধ্যে আরও কার্যকর সংযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ে অনেক প্রতিষ্ঠান পুষ্টিসেবা দিলেও এসব কার্যক্রমের মান ও পরিসংখ্যান সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ বলেন, শিশুদের খর্বকায় হওয়ার বিষয়টি শুধু খাবারের অভাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির অভাবের কারণে শিশুর অন্ত্রে ক্ষতিকর জীবাণুর প্রভাব পড়ে, যা তার স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সঙ্গেও শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতির সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে খর্বকায় শিশুর হার কমে আসে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দীন হায়দার বলেন, দেশে দীর্ঘদিন পুষ্টি খাতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে পুষ্টিসেবাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, গ্রাম পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টিসেবা দেওয়া হবে। এ কাজে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে শুধু খাদ্য সরবরাহ নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা জরুরি।