মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নিজেরাই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বাসিজ কমান্ডার হোসেইন তাইয়েব। তাঁর মতে, দেশ দুটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেও পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, যার প্রভাব শিগগিরই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হবে।
তেহরানে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক রেজিস্ট্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, হোসেইন তাইয়েব বলেন, ‘আজ আমরা বলতে পারি, আমেরিকা ও ইসরাইলে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। শিগগিরই বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখতে পাব।’
তাইয়েবের দাবি, বিশ্বজুড়ে মার্কিন জীবনধারা ছড়িয়ে দেওয়ার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ওয়াশিংটনের ছিল, তা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও শিল্পীদের মধ্যে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তা দেশটির নীতির বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
ইরানের এই বাসিজ কমান্ডার আরও দাবি করেন, বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন বাড়ছে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের অনীহাও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তাঁর ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার এবং অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি। বরং এসব তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সমাজে নতুন ধরনের চাপ এবং চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা



