অস্কারজয়ী আইরিশ সংগীতশিল্পী গ্লেন হ্যানসার্ড মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। বুধবার ভোরে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।
গ্লেন হ্যানসার্ডের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এটিসি ম্যানেজমেন্ট এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইরিশ পুলিশ জানিয়েছে, ডাবলিনের পশ্চিমাঞ্চলে মোটরসাইকেলের একক দুর্ঘটনায় পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার কিছু আগে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আইরিশ সংগীতজগতের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন গ্লেন হ্যানসার্ড। ২০০৮ সালে স্বাধীনধারার সিনেমা ‘ওয়ান্স’-এর ‘সেরা মৌলিক গান’ বিভাগে অস্কার জেতেন তিনি। সিনেমাটিতে মার্কেটা ইরগলোভার সঙ্গে তার গাওয়া ‘ফলিং স্লোলি’ গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে ‘ওয়ান্স’-এর গানগুলো ব্রডওয়ের মঞ্চনাটকে রূপ নেয়, যা ২০১২ সালে আটটি টনি পুরস্কার অর্জন করে।
হ্যানসার্ড জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ‘দ্য ফ্রেমস’-এর প্রধান কণ্ঠশিল্পী ছিলেন। ১৯৯০ সালে গড়ে তোলা এই ব্যান্ডের মাধ্যমে নিজ দেশে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর একক শিল্পী হিসেবেও বেশ কয়েকটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন তিনি। ২০১৬ সালে তার কাজ গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। পাশাপাশি মার্কেটা ইরগলোভার সঙ্গে ‘দ্য সোয়েল সিজন’ নামের সংগীত জুটিতেও কাজ করেছেন।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে ডাবলিনের রাস্তায় গান গেয়ে জীবিকা শুরু করেছিলেন হ্যানসার্ড। ১৯৯১ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘দ্য কমিটমেন্টস’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রেও তার অভিষেক হয়।
সংগীতের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিশেষ করে গৃহহীন মানুষের সহায়তায় তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১০ সালে আয়ারল্যান্ডের অর্থনৈতিক সংকটের সময় বড়দিনের আগের রাতে ডাবলিনে পথসংগীতের একটি আয়োজন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ওই আয়োজন থেকে ডাবলিন সাইমন কমিউনিটির জন্য ২০ লাখ ইউরোর বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি তার মৃত্যুর পর তাকে ‘গৃহহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক মহীরুহ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ডাবলিনের কেন্দ্রস্থলে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে বোনো, সিনেড ও’কনর এবং শেন ম্যাকগোয়ানের মতো খ্যাতিমান শিল্পীরা অংশ নিয়েছেন। ২০২৩ সালে বন্ধু শেন ম্যাকগোয়ানের শেষকৃত্যে ‘দ্য পোগস’-এর জনপ্রিয় গান ‘ফেয়ারিটেল অব নিউইয়র্ক’ পরিবেশনেও নেতৃত্ব দেন হ্যানসার্ড।
তার মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মার্কিন সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন হ্যানসার্ডকে ‘দারুণ সংগীতশিল্পী, ভালো বন্ধু এবং উদার ও ভদ্র মানুষ’ হিসেবে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেছেন। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনও দেশটির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে হ্যানসার্ডের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘ইউ টু’ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী বোনো বলেন, প্রয়োজনের সময় হ্যানসার্ড সব সময় হাসিমুখে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। রাস্তায় থাকা কোনো মানুষকে সাহায্য না করে তিনি কখনো পাশ কাটিয়ে যেতেন না। এ কারণেই বোনো তাকে ‘রাস্তাঘাটের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে অভিহিত করেন।
গ্লেন হ্যানসার্ডের স্ত্রী মাইরে সারিটসা এবং তিন বছর বয়সী ছেলে ক্রিস্টি রয়েছে।



