tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন

ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এ অর্থের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। বুধবার (২৪ জুন) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত অপরিহার্য বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমানত বিমা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা। পাশাপাশি ব্যাংক পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারের ভিত্তি গড়ে তুলতেও এ প্রকল্প সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জরুরি তারল্য সহায়তা (ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি অ্যাসিস্ট্যান্স) কাঠামো উন্নয়ন, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হবে।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দুর্বল করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়ার প্রবণতার কারণে দেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার গড় হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত (ক্যাপিটাল-টু-রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও) ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জন্য একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আস্থাভিত্তিক আর্থিক খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশের মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংকিং ব্যবস্থা বর্তমানে উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা, আস্থা বৃদ্ধি এবং সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা, তথ্য বিশ্লেষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তথ্যনির্ভর তদারকি কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প ব্যাংক খাতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি খাতসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাপ ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।