ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত এক দশকে অবশ্য বহুবার এ রাজ্যে এসেছেন তিনি। কখনও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে, কখনও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে।
কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে এক অন্য ভূমিকায় কলকাতায় অবতীর্ণ হয়েছেন অমিত। গৈরিক বাংলায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, বাংলার জয়ী বিজেপি প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তা চূড়ান্ত করতেই তার এবারের আগমন।
যদিও বঙ্গ–বিজেপির একাংশের বিশ্বাস, মন্ত্রিসভার তালিকা পকেটে নিয়েই বুধবার রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেছেন শাহ। জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক নিছকই আনুষ্ঠানিকতা। তবে বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার ব্যাখ্যায়, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলায় বিজেপির সরকার তৈরি করা অমিত শাহের স্বপ্ন ছিল। সেটা পূরণ হয়েছে। কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, কে উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন, সেটা নেহাতই সেই আবেগের কাছে তুচ্ছ।”বঙ্গের গেরুয়া ব্রিগেডে এখন চাপা উদ্বেগ। মুখে স্বীকার না করলেও বহু বিধায়কেরই চাপে আছেন। ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের দিন যথেষ্ট উদ্বেগ ছিল তাদের। শুক্রবার নিউটাউনে বিশ্ববাংলা কনভেনশনে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে তাদের উদ্বেগ আরও বেশি। কারণ, সেখানেই ঠিক হবে কোন কোন বিধায়ক আসন্ন রাজ্য সরকারে মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন।
বিজেপির এক জয়ী প্রার্থী বুকে হাত দিয়ে বললেন, “নিজের হার্টবিটের শব্দ নিজেই শুনতে পারছি। এত টেনশন হচ্ছে। কেউ বলছেন, তালিকায় আমার নাম আছে, কেউ আবার বলছেন, কোনও গ্যারান্টি নেই।”
তাকে সঙ্গত করে রাঢ়বঙ্গের এক জয়ী প্রার্থীর সংযোজন, “ভোটে জেতার প্রত্যাশা ছিল না। কারণ, বাংলায় আমরা হারতে হারতেই রাজনীতি করেছি। পরাজয়ের অভ্যাস আমাদের আছে। কিন্তু প্রবল হাওয়ায় জিতে যখন গিয়েছি, তখন মন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্খাটাও এ যাত্রায় পূরণ করতে চাই।”



