ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সুখবর পাচ্ছেন এমপিওভুক্ত চার লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের জন্য এবার ঈদ বোনাসের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের ঈদ বোনাস সংক্রান্ত প্রস্তাবে মঙ্গলবার অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনুমোদনের পর অর্থ ছাড়ের জন্য তা আইবাস ডাবল প্লাস সফটওয়্যারে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ ছাড় হলেই শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে ঈদ বোনাস বা উৎসবভাতার টাকা জমা হবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী রোববার (১৫ মার্চ) থেকেই তারা বোনাসের টাকা পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবার মোট ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭৯৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য ঈদ বোনাস বাবদ ৪৫৩ কোটি ২২ লাখ ৭ হাজার ৪২৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মাউশির পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, শিক্ষকদের ঈদ বোনাসের প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। অনুমোদনের পর তা আইবাস ডাবল প্লাস সফটওয়্যারে পাঠানো হয়েছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ ছাড় হলেই শিক্ষক-কর্মচারীদের হিসাবে টাকা চলে যাবে। এ প্রক্রিয়ায় সাধারণত এক কর্মদিবস সময় লাগে। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই কাজ শেষ হতে পারে। না হলেও রোববার থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা বোনাস পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা পাঠান। অনলাইনে বিল জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর বেতন-ভাতা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়।
ঈদ বোনাসের হার কত
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আগে মূল বেতনের ২৫ শতাংশ হারে ঈদ বোনাস পেতেন। অন্যদিকে কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক কম হওয়ায় তারা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বোনাস পেতেন।
গত বছর ঈদ বোনাস বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নামেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তাদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষকদের বোনাস ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়। তবে কর্মচারীদের বোনাস আগের মতোই রয়েছে। ফলে শিক্ষক ও কর্মচারী—উভয়েই এখন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে ঈদ বোনাস পাচ্ছেন।



