tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজনীতি১২ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা না হলে অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত: মির্জা আব্বাস

১২ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা না হলে অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত: মির্জা আব্বাস

ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা নিয়ে বিলম্ব হলে তা অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত বহন করবে। তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব। সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগলে আমরা ধরে নেবো এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে হাব, বায়রা ও অ্যাটাব—এই তিনটি সংগঠনের সঙ্গে আয়োজিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস আরও বলেন, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত আমাদের কোনো পোলিং এজেন্ট কেন্দ্র ছেড়ে যাবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেখ হাসিনার সময় যে কৌশলে নির্বাচন প্রভাবিত করা হতো, এখন ভিন্ন কৌশলে একই কাজ করার চেষ্টা চলছে। ভোটের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

সভা শেষে তিনি ভাসানী গলি, জোনাকী সিনেমা হলের গলি এবং পল্টন থানার বিপরীত পাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন। পরে পুরানা পল্টন জামে মসজিদে নামাজ আদায় শেষে আশপাশের এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, কষ্টার্জিত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। একটি দল নাকি ৪০ লাখ বোরকা তৈরি করেছে—পুরুষ সেজে ভুয়া ভোট দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনও বন্ধ হয়নি। মনে হচ্ছে যেন শুধু ঢাকা-৮ আসনেই নির্বাচন হচ্ছে। এখানে এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে যাতে সারাদেশের নির্বাচন ব্যাহত হয়। নানা ধরনের উসকানি দেওয়া হচ্ছে, তবে আমরা ধৈর্য ধরছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু আমাকে সমর্থন দিলেই হবে না। প্রতিটি ওয়ার্ড ও বাজারে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। যদি প্রতিটি এলাকায় ১০ জন করে ভোটারের সঙ্গে কথা বলা যায়, তাহলে তা নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। শুধু আমার জয় নয়, সারাদেশে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বিদায়ের পর আমরা যতটা ভালো থাকার কথা ছিল, ততটা ভালো নেই। শুধু পুলিশি নির্যাতন থেকে মুক্তি মিলেছে, কিন্তু সার্বিক স্বস্তি এখনও আসেনি।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে এই নির্বাচন এসেছে। এটি কোনো দান নয়, যেমন মুক্তিযুদ্ধও কোনো দান ছিল না। ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন, গুম হয়েছেন। দেশের মানুষের শ্রমেই এই ভিত্তি গড়ে উঠেছে।

মির্জা আব্বাস বলেন, রাজনীতিতে সভা-সমাবেশ প্রয়োজন, তবে নির্বাচন নির্ভর করে একজন প্রার্থীর সারাজীবনের কাজ ও অভিজ্ঞতার ওপর। একসময় আমাকে বর্ষীয়ান নেতাদের সামনে বসতে হতো, আর আজ আমাকে বর্ষীয়ান নেতা বলা হয়। বয়স হয়েছে বলে কেউ কেউ অবমূল্যায়ন করে, কিন্তু অভিজ্ঞতার মূল্য সময়ই প্রমাণ করবে।

তিনি বলেন, কিছু অর্বাচীন তরুণ রাজনীতিতে হঠাৎ করে বড় হয়ে উঠেছে, যারা সারাদিন আমাকে কটাক্ষ করেই সময় কাটায়। তারা আমার সম্পর্কে কিছুই জানে না। এলাকার মানুষ আমাকে চেনে। ঢাকা-৮ একটি ব্যবসায়িক এলাকা—কোনো ব্যবসায়ী বলতে পারবে না যে আমি ব্যক্তিস্বার্থে কারও কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছি।

শেষে তিনি বলেন, দেশকে অর্বাচীনদের হাত থেকে বাঁচাতে আন্দোলন নয়, ভোটই যথেষ্ট। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হবো।